আগস্ট মাসেই শেয়ার বাজারে টাকার সুনামি! জেপ্টো থেকে শিপরকেট—২৫,০০০ কোটি টাকার মেগা আইপিও নিয়ে আসছে এক ডজন কোম্পানি!

আগস্ট মাসটি ভারতীয় শেয়ার বাজার এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও লাভজনক অধ্যায় হতে চলেছে। আপনি যদি আইপিও বা ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং-এর মাধ্যমে স্টক মার্কেটে লগ্নি করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এখনই নিজের পুঁজি প্রস্তুত করে রাখুন। আগামী মাসে মূল ভূখণ্ডের প্রায় এক ডজনেরও বেশি নতুন কোম্পানি বাজারে তাদের আইপিও নিয়ে আসার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। এই সমস্ত মেগা কোম্পানিগুলি সম্মিলিতভাবে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ২৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিপুল পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করার টার্গেট নিয়েছে। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তালিকায় জেপ্টো, শিপরকেট, ট্রুহোম ফাইন্যান্স এবং এলিভেট ক্যাম্পাসের মতো দেশের তাবড় এবং জনপ্রিয় কর্পোরেট ব্র্যান্ডগুলির নাম রয়েছে। আর্থিক বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থাই কোম্পানিগুলিকে এত দ্রুত গতিতে বাজারে আইপিও লঞ্চ করতে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করছে।
মার্চেন্ট ব্যাংকারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক মাসে শেয়ার বাজারের সামগ্রিক পরিকাঠামো এবং অনুকূল পরিবেশের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। ফলস্বরূপ, অতীতে যেসব কোম্পানি প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তাদের নির্ধারিত আইপিও সাময়িকভাবে স্থগিত বা পিছিয়ে দিয়েছিল, তারা বর্তমান চাঙ্গা বাজারে তা চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একাধিক শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞের জোরালো অনুমান, ভারতের প্রাইমারি মার্কেট বা আইপিও বাজার দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত শক্তিশালী ও গতিশীল থাকবে। তাঁদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, কেবল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারত এই আইপিও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে সফলভাবে তুলতে সক্ষম হবে। বর্তমানের এই ইতিবাচক চিত্রই প্রমাণ করে যে লগ্নিকারীদের কাছে স্টক মার্কেট কতটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
আসন্ন আগস্ট মাসের এই আইপিও ঝড়গুলোর মধ্যে সবথেকে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে কুইক কমার্স জায়ান্ট ‘জেপ্টো’-র আইপিও। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই সংস্থাটি আগস্ট মাসেই তাদের বহুচর্চিত ও বহুল প্রতীক্ষিত আইপিও বাজারে নিয়ে আসতে চলেছে। কোম্পানি সূত্রে খবর, তারা ৮,০১০ কোটি টাকার একেবারে নতুন ফ্রেশ ইকুইটি শেয়ার ইস্যু করবে। পাশাপাশি, সংস্থার বহু পুরনো ও বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা অফার ফর সেল বা ওএফএস (OFS)-এর মাধ্যমে প্রায় ১১.৩৪ কোটি ইক্যুইটি শেয়ার সরাসরি বাজারে বিক্রি করবেন। জেপ্টোর পাশাপাশি ই-কমার্স লজিস্টিকস খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘শিপরকেট’ প্রায় ২,৩৪২ কোটি টাকার একটি আকর্ষণীয় আইপিও আনার প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে ১,১০০ কোটি টাকার নতুন শেয়ার এবং বাকি অংশ শেয়ার অফারিংয়ের মাধ্যমে তোলা হবে। অন্যদিকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ট্রুহোম ফাইন্যান্স’ প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে সমানভাবে নতুন শেয়ার ইস্যু ও ওএফএস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শুধু এগুলিই নয়, আগস্ট মাসে পুঁজিবাজারে আত্মপ্রকাশ করতে চলা অন্যান্য হাই-প্রোফাইল কোম্পানিগুলির তালিকায় আরও বহু নাম রয়েছে। এর মধ্যে ‘এলিভেট ক্যাম্পাসেস’ একাই প্রায় ২,৫০০০ কোটি টাকার সম্পূর্ণ ফ্রেশ ইস্যুভিত্তিক আইপিও বাজারে আনবে। এছাড়া ‘ইনোভেটিভ ভিউ ইন্ডিয়া’ প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার সম্পূর্ণ ওএফএস-ভিত্তিক আইপিও এবং ‘মিল্কি মিস্ট ডেয়ারি ফুড’ প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের আইপিও চালু করার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এই হেভিওয়েট নামগুলি ছাড়াও ধুত ট্রান্সমিশন, এআরসিআইএল, গাজা অল্টারনেটিভ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, শঙ্কেশ জুয়েলার্স, রেস অফ বিলিফ, এআরডি ইন্ডাস্ট্রিজ, হাই-টেক ইঞ্জিনিয়ার্স এবং লার্নফ্লুয়েন্স এডুকেশনের মতো সম্ভাবনাময় সংস্থাগুলিও এই মাসেই পুঁজিবাজারে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করতে নামতে পারে।
চলতি ২০২৬ সালের পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে দেখা যায় যে, ইতিমধ্যেই মূল বা মেইনবোর্ড সেগমেন্টে প্রায় ৩৬টি কোম্পানি সফলভাবে তাদের আইপিও বাজারে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ে শুধুমাত্র জুলাই মাসেই মোট ৯টি আইপিও চালু করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই—বিশেষ করে ২৯শে জুলাই মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজেস এবং ৩০শে জুলাই জুনিপার গ্রিন এনার্জি ও এমভি ইলেকট্রোসিস্টেমস-এর মতো বড় বড় কোম্পানির আইপিও খোলার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারিত রয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইপিও বাজারে এই লাগাতার ও অদম্য গতিশীলতা পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে ভারতীয় অর্থনীতির ওপর দেশি ও বিদেশি লগ্নিকারীদের বিশ্বাস ও ভরসা কতটা দৃঢ় রয়েছে।