কারগিল থেকে সরাসরি ইসলামাবাদকে হুঙ্কার রাজনাথ সিংয়ের! ‘পিওকে ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়!’

কারগিল যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে দাঁড়িয়ে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছেন যে, কারগিল যুদ্ধ কেবল ভারতের জন্য একটি সামরিক বা কূটনৈতিক বিজয়মাত্র ছিল না। এটি এমন এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত ছিল, যার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ব ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অটল সাহস, বীরত্ব ও পরাক্রমের চাক্ষুষ সাক্ষী হয়ে ওঠে। কারগিল যুদ্ধে আমাদের অকুতোভয় সৈন্যদের বীরত্ব এমন এক সোনালী ইতিহাস রচনা করেছে, যা প্রতিটি ভারতীয়ের বুক গর্বে ভরে দেয়। আমাদের সাহসী জওয়ানরা সর্বদা দেশের সুরক্ষায় অসাধারণ সাহস প্রদর্শন করেছেন। এই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি স্মরণ করেন যে, আমরা সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের প্রথম বার্ষিকী অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার সঙ্গে উদযাপন করেছি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান যে, এই বিশেষ অভিযানে আমাদের সাহসী সৈনিক ও বীর কর্মকর্তারা দেশের মাটিতে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসী এবং তাদের মদদদাতাদের এমন এক উপযুক্ত ও কড়া জবাব দিয়েছেন, যা তারা সারাজীবনেও কোনোদিন ভুলবে না। পাকিস্তানের প্রতিটি ঘৃণ্য ও নাপাক পদক্ষেপের জবাব ভারত তার কল্পনার চেয়েও বহুগুণ বেশি কঠোরভাবে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। হুঙ্কার ছেড়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি আজ এই পবিত্র মঞ্চ থেকে একটি অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই যে, ভারতের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে যারা বারবার হুমকির মুখে ঠেলে দেয়, সেই সমস্ত ঘৃণ্য চক্রান্তের শেষ পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।”
সেনাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যকার সুক্ষ্ম দূরত্ব যে সম্পূর্ণ মুছে গেছে, সেকথা স্পষ্ট করে রাজনাথ বলেন, “এই যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে দাঁড়ালে আপনি সমগ্র ভারতকে এক সুতোয় বাঁধা দেখতে পাবেন। এখানকার শহিদদের তালিকায় হিমাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, তামিলনাড়ু কিংবা দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের নাম উজ্জ্বল অক্ষরে খোদাই করা আছে। এখানে সেই সব বীরদের নামও পাবেন, যারা নিয়মিত মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বার কিংবা গির্জায় প্রার্থনা করতে যেতেন। যারা এই বৈচিত্র্যপূর্ণ ভারতকে টুকরো টুকরো করার স্বপ্ন দেখে, তাদের এই স্মৃতিসৌধের প্রাচীরের দিকে গভীর চোখে তাকানো উচিত। ভারতকে বিভক্ত করার সমস্ত ঘৃণ্য স্বপ্নের একমাত্র যোগ্য জবাব হলো এই ঐক্যের প্রাচীর।”
পাক নীতি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর সুরে বলেন, “আমাদের জাতীয় উদ্দেশ্য আজ সম্পূর্ণ স্পষ্ট। পাকিস্তানের সঙ্গে গতানুগতিক কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আর নয়। যদি ভবিষ্যতে কোনো আলোচনা হয়ও, তবে তা শুধুমাত্র পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে (PoE)-কে ভারতের মূল ভূখণ্ডে ফিরিয়ে আনা নিয়েই হবে, যা আইনগতভাবে আমাদেরই অংশ এবং পাকিস্তান দ্বারা দীর্ঘকাল ধরে অবৈধভাবে দখলকৃত। বর্তমান সময়ে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে তাদের রাষ্ট্রীয় নীতির মূল অংশ করে তুলেছে এবং তাদের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও উগ্রবাদী জঙ্গিদের মধ্যেকার পার্থক্য পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পাক সেনা কেবল সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় বা সুরক্ষাই দেয় না, বরং তাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজও করে। ফলস্বরূপ, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ই আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলাম যে, ভারত আর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থনকারী সরকারকে আর আলাদা সত্তা হিসেবে বিবেচনা করবে না।”
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বৈত অবস্থান তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেন, আজ যেখানে উদীয়মান ভারত বিজ্ঞান, গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে, সেখানে পাকিস্তান আজও সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের নিত্যনতুন ও অন্ধকার পথ খুঁজছে। ভারত যখন সমুদ্রের বুকে অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ করছে, পাকিস্তান তখন বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করতে ব্যস্ত। ভারত যখন দেশে একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে, পাকিস্তান তখন একটি ঘৃণ্য সন্ত্রাসী ইকোসিস্টেম টিকিয়ে রেখেছে। ভারত যখন আধুনিক প্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করছে, তখন পাকিস্তান আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী তৈরি করতে ব্যস্ত। ভারত বিশ্বমঞ্চে তার গৌরবময় মহাকাশ অভিযানের জন্য আজ পরিচিত, আর পাকিস্তান প্রক্সি যুদ্ধের মিশন চালাচ্ছে। ভারত যখন মহাকাশে দেশের গর্বের স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে, তখন পাকিস্তান এপার বাংলায় সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি পাঠাতে ব্যস্ত। ভারত আজ সারা বিশ্বকে অত্যাধুনিক সফটওয়্যার সরবরাহ করছে, আর পাকিস্তান প্ররোচনা ও সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে। ভারত ডেটা সেন্টার তৈরি করে দেশের মেরুদণ্ড শক্ত করছে, আর পাকিস্তান উগ্রবাদ ছড়ানোর আখড়া গড়ে তুলছে। ভারত যখন পেমেন্টের জন্য ইউপিআই-এর মাধ্যমে বিশ্বকে এক সুতোয় বাঁধছে, পাকিস্তান তখন হুয়ালার গোপন জালের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে অর্থায়ন করছে। আমাদের এবং তাদের চলার পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাকিস্তান যদি তাদের এই জঘন্য কূটকৌশল দিয়ে আমাদের জাতীয় অগ্রগতির যাত্রায় বাধা সৃষ্টি করার দুঃসাহস দেখায়, তবে আমাদের অপ্রতিরোধ্য ও বীর সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো মূল্যে তাদের উপযুক্ত জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।