ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত আসন্ন ছবি ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ মুক্তির আগেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। সলমন খান ও সুস্মিতা সেনের অভিনীত ১৯৯৯ সালের সুপারহিট ছবি ‘বিবি নং ১’-এর আইকনিক গান ‘চুনেরি চুনেরি’-র রিমেক ব্যবহার করা হয়েছে এই নতুন ছবিতে। কিন্তু এই নতুন সংস্করণ দেখেই নেটপাড়া থেকে শুরু করে মূল গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য—সকলেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বরুণ ধাওয়ান, পূজা হেগড়ে এবং ম্রুণাল ঠাকুর অভিনীত এই গানটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে কলাকুশলীদের।
মূল গানের গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য একটি সাক্ষাৎকারে সরাসরি নিজের হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই আইকনিক গানটি রিমেক করার আগে নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ করার প্রয়োজন মনে করেননি। ক্ষুব্ধ অভিজিৎ বলেন, “এই গানটি সলমন খানের জীবনের অন্যতম বড় হিট। যখন গানটি মুক্তি পায়, তখন সলমন কেবল উঠতি তারকা ছিলেন, আজকের মতো সুপারস্টার নন। অথচ এই গানটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।”
শুধু তাই নয়, বরুণ ধাওয়ানকে আক্রমণ করতে গিয়ে অভিজিৎ তাঁকে ‘সেকেন্ড-হ্যান্ড’ অভিনেতা হিসেবে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “এই অভিনেতা বরাবরই পুরনো ছবির রিমেক বা তাঁর বাবার পরিচালিত ছবির গান ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু বরুণ ধাওয়ান পর্দায় আমার গান গেয়ে কখনোই সলমন খান হয়ে উঠতে পারবেন না। সলমন আর বরুণের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।”
গানটির সংগীতায়োজন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অভিজিৎ ব্যঙ্গ করে বলেন, “নতুন সংস্করণটি শুনে মনে হচ্ছে এটি একটি ‘ভজন’। অথচ মূল গানটি ছিল প্রাণবন্ত এবং রোমান্টিক।” তিনি আরও জানান, নির্মাতারা যদি অনুমতি চাইতেন, তবে তিনি এই রিমেকে কণ্ঠ দেওয়া তো দূরের কথা, বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতেন। গানটির মান যেভাবে নষ্ট করা হয়েছে, তাতে তিনি বর্তমানে এই প্রজেক্টে যুক্ত না থাকাতেই খুশি।
উল্লেখ্য, নতুন গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন অক্ষয় রাহেজা ও অভিষেক সিং, এবং কোরিওগ্রাফি করেছেন রেমো ডি’সুজা। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আইপি সিং, জোনিতা গান্ধি, আসিস কৌর, সুধীর যদুবংশী এবং অনুরাধা শ্রীরাম। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকরা নতুন ভার্সনটিকে একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না। রমেশ তৌরানির প্রযোজনায় এই ছবিটি আগামী ৫ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। এখন দেখার বিষয়, মুক্তির আগে এই বিতর্ক ছবির বক্স অফিস সাফল্যে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।





