বলিউডের সাফল্যের মধ্যগগনে থাকা রণবীর সিং এখন এক বড় বিতর্কের কেন্দ্রে। বক্স অফিসে একের পর এক ব্লকবাস্টার হিট দেওয়ার পর, এবার নিজের পেশাদারী সিদ্ধান্তের কারণে জড়িয়ে পড়লেন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায়। শোনা যাচ্ছে, ফরহান আখতারের বহু প্রতীক্ষিত ‘ডন ৩’ ছবি থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর কারণেই ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ় (FWICE) তাঁকে একপ্রকার ‘নিষিদ্ধ’ বা ব্যান করার পথে হাঁটছে।
কী এই FWICE এবং কেন এই পদক্ষেপ?
FWICE ভারতের চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মী সংগঠন। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার অধীনে প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলী কাজ করেন। লাইটম্যান থেকে স্টান্ট পারফর্মার—সবার স্বার্থ রক্ষা করাই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। অভিযোগ, ২০২৩ সালে ‘ডন ৩’-এর মুখ্য চরিত্রের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর শুটিং শুরুর আগেই রণবীর ছবিটি ছেড়ে দেন। ততদিনে প্রযোজনা সংস্থা ‘এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট’ ৪৫ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করে ফেলেছিল। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, এই আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে রণবীর কোনো সদর্থক আলোচনা করেননি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই FWICE গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে অনুরোধ জানিয়েছে, রণবীরের সঙ্গে কাজ না করার জন্য।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কতটা?
প্রশ্ন উঠছে, এই ‘ব্যান’ কি রণবীরের ক্যারিয়ার পুরোপুরি নষ্ট করে দেবে? বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা জটিল। FWICE সরকারি কোনো সংস্থা নয়, তাই আইনত রণবীরের কাজ করা আটকে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তবে বলিউডের ছবিতে শত শত টেকনিশিয়ান ও কর্মীর প্রয়োজন হয়, যাঁরা FWICE-এর সদস্য। তাঁরা যদি শুটিং সেটে কাজ করতে অস্বীকার করেন, তবে যে কোনো বড় বাজেটের সিনেমার কাজ থমকে যেতে বাধ্য। ফলে ভবিষ্যতে রণবীরের নতুন ছবির শুটিং শুরু করা নিয়ে বড় ধরনের সমস্যার আশঙ্কা থাকছেই। তবে, অভিনেতারা মূলত ‘সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্ট অ্যাসোশিয়েশন’ (CINTAA)-এর সদস্য হন, তাই এই নিষেধাজ্ঞা রণবীরের ক্যারিয়ারের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ধন্দ থেকেই যাচ্ছে।
রণবীরের নীরবতা ও অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া:
বিতর্কের মাঝেই মঙ্গলবার রণবীরকে দেখা গেছে কর্নাটকের চামুণ্ডেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ভাবাবেগ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এটি তাঁর বিশেষ মন্দির দর্শন বলে মনে করছেন অনেকে। তবে বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের সামনে ‘ব্যান’ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি অভিনেতা। তাঁর মুখপাত্রের দাবি, রণবীর পেশাগত বিষয়টিকে আলোচনার মাধ্যমে মেটাতে চান এবং ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রেখেই নীরবতা পালন করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীরা দুই ভাগে বিভক্ত। রণবীরের শুভানুধ্যায়ীদের মতে, সাফল্যের ঈর্ষা থেকেই এই চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে, সমালোচকদের বক্তব্য, চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ছবি ছেড়ে দেওয়া অপেশাদারিত্বের পরিচয় এবং প্রযোজকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া অভিনেতার নৈতিক দায়িত্ব। এখন দেখার, রণবীর সিং ও প্রযোজনা সংস্থার মধ্যে কোনো সমঝোতা হয় কি না। কারণ, সেই আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে এই ‘নিষিদ্ধ’ বিতর্কের চূড়ান্ত পরিণতি।





