বলিউডের নয়ের দশকের অন্যতম আইকনিক ও সুপারহিট গান ‘চুনারি চুনারি’-র রিমেক নিয়ে এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আসন্ন ছবি ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশ্ক হোনা হ্যায়’-তে এই ক্লাসিক ট্র্যাকটির নতুন সংস্করণ ব্যবহার করার পর থেকেই দর্শক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে এই বিতর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে যখন মূল গানের নেপথ্যে থাকা গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য খোদ নতুন সংস্করণের কড়া সমালোচনা করে অভিনেতা বরুণ ধাওয়ানকে আক্রমণ করেছেন।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ ১৯৯৯ সালের ‘বিবি নম্বর ওয়ান’ ছবির এই চিরসবুজ গানটির অপব্যবহার নিয়ে নিজের চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিজিৎ সরাসরি সলমন খানের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, “চুনারি চুনারি সলমন খানের ক্যারিয়ারের মাইলস্টোন ছিল। সলমন আর বরুণের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। শুধু আমার গান ব্যবহার করলেই কেউ সলমন খান হয়ে যেতে পারে না।” তিনি দাবি করেন, বরুণ ধাওয়ান বারবার পুরনো হিট গান ও ছবিকে ‘সেকেন্ড-হ্যান্ড’ হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশেষ করে যে ছবি বা গানগুলো তাঁর বাবা ডেভিড ধাওয়ানের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলো নিয়ে বরুণের এই অতি-নির্ভরশীলতা নিয়ে গায়ক তীব্র শ্লেষ প্রকাশ করেছেন।
অভিজিৎ মজার ছলে আরও যোগ করেন যে, নতুন রিমেকটি শুনে তাঁর মনে হয়েছে এটি মোটেও কোনও রোম্যান্টিক গান নয়, বরং এটি শুনলে ‘ভজন’-এর মতো মনে হয়! এই রিমেক তৈরির আগে নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে ন্যূনতম যোগাযোগ করার প্রয়োজনও বোধ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিজিতের মতে, তিনি এর অংশ হতে চাননি কারণ নতুন সংস্করণটি মূল গানের মান ও আবেগকে সম্পূর্ণ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আসা নতুন গানটিতে গলা দিয়েছেন আইপি সিং, জোনিতা গান্ধী, আসিস কৌর, সুধীর যদুবংশী এবং মূল গায়িকা অনুরাধা শ্রীরাম। গানটিতে পারফর্ম করেছেন বরুণ ধাওয়ান, পূজা হেগড়ে ও ম্রুণাল ঠাকুর। রেমো ডি’সুজার কোরিওগ্রাফিতে নতুন এই সংস্করণটিকে আধুনিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা হলেও দর্শকরা তা একেবারেই গ্রহণ করতে পারেননি।
বিতর্ক কেবল গায়কের ক্ষোভেই থেমে নেই, পৌঁছে গিয়েছে সিনেমার অন্দরমহলেও। প্রযোজক বাসু ভাগনানি এবং পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানের মধ্যে এই গান নিয়ে বড়সড় মতবিরোধ সামনে এসেছে। অভিযোগ, বাসু ভাগনানির অনুমতি ছাড়াই তাঁর ছবির স্বত্বাধীন গান এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। ভাগনানির মতে, এটি কেবল আর্থিক নয়, বরং একটি বড় ‘নৈতিক ইস্যু’। আগামী ৫ জুন মুক্তি পেতে যাওয়া এই ছবি এখন গানের বিতর্ক ঘিরেই চর্চার কেন্দ্রে।





