‘মেয়েটি জীবিত না মৃত, রাজ্য জানাক!’ ঋতব্রতর বিরুদ্ধে পুরনো মামলা নিয়ে কুণালের হুঙ্কার

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক চরম চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের সূত্রপাত ঘটাল কুণাল ঘোষের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। বর্তমান সময়ে মমতার শিবিরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে আলাদা দল পরিচালনা করছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ঠিক এই সংকটজনক মুহূর্তেই তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ২০১৭ সালের সেই বহুল আলোচিত ধর্ষণ ও হুমকি মামলার পুরনো ফাইল কি তবে ফের খোলা হচ্ছে? কুণাল ঘোষের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। সেই সময় বালুরঘাটের এক তরুণী নম্রতা দত্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় সরাসরি ধর্ষণের একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই আইনি লড়াইয়ের জল বহুদূর গড়ায় এবং পরবর্তীকালে সিজেএম কোর্টের বিচারক অভিযুক্ত ঋতব্রতকে নির্দিষ্ট শর্তে জামিন দিয়েছিলেন। এরপর ওই বছরেরই ৭ নভেম্বর নম্রতা ফের অভিযোগ করেন যে, ঋতব্রত ও তাঁর তৎকালীন বান্ধবী (বর্তমানে স্ত্রী) দুর্বা সেন তাঁকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছেন। সে সময় এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রচণ্ড শোরগোল পড়লে সিপিএম তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দিলেও বর্তমানে তিনি দলীয় নেতৃত্ব ও মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে নিজস্ব সংগঠন চালাচ্ছেন।
এহেন ঋতব্রত যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নেমেছেন, ঠিক তখনই তাঁর অতীতের সেই পুরনো মামলাকে নতুন করে উসকে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করে কুণাল দাবি করেছেন যে, এই পুরনো মামলার ফাইল পুনরায় খুলে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ করার জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে (DGP) লিখিত নির্দেশ বা চিঠি পাঠিয়েছে।
কুণাল ঘোষ নিজের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করে বলেন, “আমি এই বিষয়ে ছবি ও তথ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছিলাম। তিনি সেই চিঠি রাজ্য সরকারকে পাঠান। এরপর আমি মুখ্যসচিবকে কপি দিয়ে অনুরোধ করি পুলিশকে যেন দ্রুত কেস ফাইল খুলে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলা হয়। অবশেষে রাজ্য সরকার ডিজিকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চিঠি দিয়েছে এবং আমাকে তার কপিও দেওয়া হয়েছে। আমি এবার সরাসরি ডিজিকে চিঠি দিয়ে জানতে চাইব তদন্ত এখন ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে, কেন এতদিন তা আটকে ছিল, সেই তরুণী এখন জীবিত না মৃত—এই সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য রাজ্যবাসীর সামনে আসুক। একবার সিপিএমের ছাতার তলায় আশ্রয় নিয়ে, তো কখনও অন্য রাজনৈতিক বকলস পরে বাঁচা যায় না, মানুষ এখন সব বুঝতে পারছে।”
কুণালের এই বিস্ফোরক দাবির পাশাপাশি ঋতব্রতর নবগঠিত রাজনৈতিক শিবিরেও বড়ো ধরণের ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। জানা গিয়েছে, ঋতব্রতর সংগঠনের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ তথা বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী পদ থেকে আকস্মিকভাবে ইস্তফা দিয়েছেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে দল ছাড়ছেন না বলেই দাবি করেছেন এবং তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে পুজো এবং উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের ধর্ষণ মামলার ফাইল খোলার এই তোড়জোড় এবং কুণাল ঘোষের একের পর এক হুঙ্কার বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।