যন্তর মন্তরে তেরঙা ওড়ানো অপরাধ? সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারিতে মোদি সরকারকে তুলোধনা অভিষেকের!

দিল্লির যন্তর মন্তরকে সরকারিভাবে বিক্ষোভ দেখানোর তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরই শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংঘাত। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং গেট টপকে যন্তর মন্তরের ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও প্রতিবাদের জেরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবার কেন্দ্র সরকারকে চরম আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির একটি দল ব্যারিকেড ও নিষেধাজ্ঞা ভেঙে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে। যদিও অজিঙ্ক শিণ্ডে নামক এক নেতা ছাড়া পেয়ে যান, তবে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পুলিশ আটক করে তিহার জেলে পাঠায়। এই গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে প্রথমে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুখ খুললেও, এবার সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক লিখেছেন, “বড় বড় তথাকথিত জাতীয়তাবাদীরা আজ নিজের দেশেই তিরঙ্গা পতাকা ওড়ানোর জন্য ভারতীয়দের গ্রেফতার করছে! কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সেটাই নাকি শান্তিভঙ্গ করার মতো অপরাধ। বিজেপির এমন পাকিস্তানোচিত ভারতে আপনাকে স্বাগত।” অভিষেকের এই জোরালো বার্তার পরই তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁর পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় রিপোস্ট করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেও। তিনি লেখেন, “ধন্যবাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্যার, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য।”
এর আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি লেখেন, “শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরে তিরঙ্গা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। এ ভাবে তরুণদের জেলবন্দি করা সম্পূর্ণ কাপুরুষোচিত কাজ। ছাত্রছাত্রী, যুবক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে সমস্ত বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোটের লক্ষ্য একটাই—নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা। যন্তর মন্তর ভারতের সাধারণ মানুষের, এবং আমরা তা ফিরিয়ে আনবই।”
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অপরাধে তরুণ নেতাদের জেলে পাঠানোর এই ঘটনায় বিরোধীদের সম্মিলিত প্রতিবাদের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।