‘আগে ভোট চুরি, এখন প্রতিবাদের অধিকার চুরি’! মোদী-শাহের বিরুদ্ধে খাড়গের হুঙ্কার, জয়রাম রমেশের ৩ মেগা প্রশ্ন

ভোটার তালিকার বিশেষ তীব্র পুনর্বিন্যাস (SIR) এবং রাজধানীর যন্তর-মন্তরে প্রতিবাদ করার অধিকার খর্ব করার অভিযোগে কেন্দ্র সরকারকে চরম আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে ভোটার তালিকা থেকে যে ১৩.৩ কোটি ভারতীয়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে তকমা দেওয়া আসলে সরাসরি দেশের অখণ্ডতা ও ভারতীয়ত্বের অপমান। পাশাপাশি, যন্তর-মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদ স্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার তীব্র নিন্দা করে তিনি একে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে সরাসরি আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করার অভিযোগ তুলেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে মল্লিকার্জুন খাড়গে লিখেছেন, “আগে ভোট চুরি এবং এখন প্রতিবাদের অধিকার চুরি—এটাই বিজেপির একনায়কতন্ত্রের আসল রূপ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেই জেলের ভাত খেতে হচ্ছে, যুবসমাজকে নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করা হচ্ছে এবং মহিলা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। খাড়গে সাফ জানিয়ে দেন, যতই বাধা আসুক না কেন, মোদী-শাহের ভুল নীতির বিরুদ্ধে মানুষ সবসময় সোচ্চার থাকবে এবং সরকারের জবাবদিহি আদায় করবে।

অন্যদিকে, এই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি তিনটি কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। তাঁর প্রশ্ন—এসআইআর চলাকালীন ঠিক কতজন প্রকৃত অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে? ঠিক কতজন মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে? এবং তাদের মধ্যে কতজনকে ভারত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে? জয়রাম রমেশের দাবি, দেশের প্রায় ১০০ কোটি নাগরিককে এই জটিল এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, ফলে এর আসল ফলাফল জানার পূর্ণ অধিকার দেশবাসীর রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অনুপ্রবেশকারীর জুজু দেখিয়ে আসলে ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি সাধারণ ভারতীয়ের নাম কৌশলে বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে কেন্দ্র। প্রায় ১৪ কোটি ভারতীয়কে তাঁদের মৌলিক সাংবিধানিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এর নৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি দাবি করেছেন।