লঞ্চের দিনই মার্কিন মুলুকে বাজবে ভারতীয় জয়রথ! আমেরিকার হাতে উঠবে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স

টেক জায়ান্ট অ্যাপলের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। তবে এবার ভারতীয় বাজারের জন্য শুধু তৈরি নয়, এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে এই মার্কিন সংস্থাটি। বিশ্ববাজারের অন্দরে গুঞ্জন জোরালো হয়েছে যে, এবার লঞ্চের প্রথম দিন থেকেই আমেরিকা বা ইউরোপের ক্রেতারা হাতে পেয়ে যেতে পারেন ভারতের কারখানায় তৈরি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ আইফোন। অ্যাপলের মতো একটি বিশ্বখ্যাত সংস্থার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে, যা গ্লোবাল সাপ্লাই চেনের পুরো চিত্রটাই বদলে দিতে পারে। গত কয়েক বছর ধরেই ভারতে আইফোন উৎপাদনের পরিধি নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে অ্যাপল। বিশেষ করে টাটা ইলেকট্রনিক্সসহ অন্যান্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের হাত ধরে দেশের মাটিতেই এখন তৈরি হচ্ছে একাধিক প্রিমিয়াম মডেল। এতদিন পর্যন্ত চীনই ছিল অ্যাপলের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র, কিন্তু সেই একাধিপত্য কমিয়ে ভারতকেই বিশ্বের অন্যতম প্রধান ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে জোরকদমে। আসন্ন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স তৈরির ক্ষেত্রে ভারতের এই ভূমিকা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মার্কিন ক্রেতাদের আর দীর্ঘ প্রতীক্ষা করতে হবে না; বরং অন্য দেশের পাশাপাশি ভারতের কারখানায় অ্যাসেম্বল করা ফোনও তারা সরাসরি কিনতে পারবেন। বিশ্বজুড়ে নিজেদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে সুষমভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই ভারতের ওপর এই বিশেষ আস্থার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অ্যাপল। কারণ, ভারত এখন কেবল একটি বিশাল কোটি কোটি মানুষের বাজারই নয়, বরং হাই-এন্ড ও প্রিমিয়াম স্মার্টফোন তৈরির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের বিভিন্নপ্রান্তে ফোনের ক্রমবর্ধমান জোগান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারবে এই টেক জায়ান্ট। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে আইফোনের চাহিদা তুঙ্গে থাকলে তা পূরণে ভারতের ওপরই মূল ভরসা রাখছে কর্তৃপক্ষ।চলрতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বহু প্রতীক্ষিত আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। যদিও অ্যাপলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, প্রো মডেলগুলোর পাশাপাশি সংস্থার প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বা নতুন কোনো চমকও সামনে আসতে পারে। অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, এই ফ্ল্যাগশিপ ফোনে যুক্ত হতে পারে অত্যাধুনিক এ২০ প্রো চিপসেট, ভ্যারিয়েবল-অ্যাপারচার প্রাইমারি ক্যামেরাসহ একগুচ্ছ হাই-টেক হার্ডওয়্যার আপডেট। তবে প্রযুক্তিপ্রেমী মার্কিন ফ্যানদের কাছে এই মুহূর্তে ফোনের ফিচারের চেয়েও বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে এর উৎপাদন স্থল। সূত্রের এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে তা ভারতীয় প্রযুক্তির মুকুটে এক নতুন ও উজ্জ্বল羽 যুক্ত করবে।