ভাগ্যের এমন অদ্ভুত সমাপতন আগে দেখেছেন? যমজ ভাই বিয়ে করলেন যমজ বোনকে, ভাইরাল হল ছবি

কথায় বলে, ‘যমজ সন্তানের ভাগ্যও নাকি একই সুতোয় বাঁধা থাকে।’ তবে কেরলের চাঙানাচেরিতে সম্প্রতি যা ঘটেছে, তা যেন বাস্তবের চেয়েও কোনো নিখাদ চলচ্চিত্র বা রূপকথার চিত্রনাট্যকে অনায়াসে হার মানায়। যেকোনো সাধারণ বিয়েবাড়িতে আলো, ফুল, সাজসজ্জা কিংবা রাজকীয় ভোজের বহরই প্রধানত অতিথিদের নজর কাড়ে; কিন্তু গত বৃহস্পতিবার চাঙানাচেরি মেট্রোপলিটন চার্চে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা খাবারের মেনু বা সাজসজ্জা ভুলে একেবারে অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন চার্চের মূল বেদির দিকে। কারণ, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বর থেকে শুরু করে খোদ পুরোহিত—প্রায় প্রতিটি প্রধান ভূমিকাতেই ছিলেন যমজ যুগল!

জানা গেছে, চাঙানাচেরির স্থানীয় বাসিন্দা কুঞ্জুমন থমাস ও জোমোলের যমজ পুত্র হলেন অখিল কে থমাস এবং নিখিল কে থমাস। পেশাগত জীবনে দুজনেই মার্চেন্ট নেভির অত্যন্ত সফল কর্মী। অন্যদিকে, পত্তনমতিট্টা জেলার কুলথুরের বাসিন্দা টমিচান ও ম্যারিকুটির ঘরে জন্ম নেওয়া যমজ কন্যা হলেন ম্যাজি মেরি থমাস এবং মারিয়া মেরি থমাস—যাঁরা পেশায় দুজনেই স্বনামধন্য তথ্যপ্রযুক্তি বা IT কর্মী। গত বৃহস্পতিবার একই বিয়ের মঞ্চে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নিখুঁত সমাপতনে চার হাত এক হলো তাঁদের। অবাক করা কাণ্ডে অখিল বিয়ে করলেন ম্যাজিকে, আর তাঁরই যমজ ভাই নিখিলের জীবনসঙ্গিনী হলেন ম্যাজির যমজ বোন মারিয়া।

তবে এই বিস্ময়ের রেশ কেবল বর এবং কনেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সমগ্র বিবাহ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালনা করেন কাঞ্জিরাপল্লি ডায়োসিসের দুই যমজ ফাদার—অ্যান্টো পেঝুমকাট্টিল এবং আজো পেঝুমকাট্টিল। শুধু তাই নয়, তাঁদের পবিত্র প্রার্থনায় সহযোগিতা করার জন্য চার্চের অলটার বয় বা সহকারী হিসেবে উপস্থিত ছিল পালার অন্য দুই যমজ কিশোর—জেরন জেমস ও জোহন জেমস।

সবচেয়ে বড় কথা, গোটা এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানটি কিন্তু কোনো আকস্মিক বা কাকতালীয় ঘটনা ছিল না; এর নেপথ্যে রয়েছে দুই কনের ছোটবেলা থেকে দেখা এক সুপ্ত ও দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। যমজ দুই বোন সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলে জানান, “ছোটবেলা থেকেই আমাদের প্রবল স্বপ্ন ছিল যে আমাদের জীবনের বিশেষ এই বিয়ের আসর যেন পুরোপুরি যমজদের উপস্থিতি দিয়েই সাজানো থাকে। আমাদের পরিবারও আমাদের এই অদ্ভুত ইচ্ছেকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন করেছিল।”

এমন এক বিরল ও যমজ পুরোহিত খুঁজে পাওয়ার জন্য দুই বোন দীর্ঘক্ষণ সন্ধান শুরু করেন কোঠানাল্লুরের একটি বিশেষ চার্চে, যা মূলত যমজদের জমায়েত ও নানা আয়োজনের জন্য বিশেষভাবে সুপরিচিত। সেখান থেকেই বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয় ওই যমজ ফাদারদের। সমগ্র অনুষ্ঠান শেষে ফাদার অ্যান্টোর মুখেও শোনা যায় আনন্দের সুর। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “একসঙ্গে এমন এক জোড়া যমজ যুগলের বিবাহ পবিত্র রীতি মেনে পরিচালনা করা অত্যন্ত বিরল ও চিরস্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা। এই দিনটি আমাদের সকলের কাছেই আজীবন মনে রাখার মতো একটি সুমধুর স্মৃতি হয়ে রইল।”

এদিকে, চার্চের অন্দরে হওয়া এই অনন্যসাধারণ বিয়ের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়তেই নিমেষে তা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের কমেন্ট বক্সে উপচে পড়ছে অভিনন্দনের বন্যা। এক উচ্ছ্বসিত ব্যবহারকারী মন্তব্য বাক্সে লিখেছেন, “এই বিয়ে তো সোজাসুজি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাওয়ার যোগ্য!” আরেকজন রসিকতা করে লিখেছেন, “সৃষ্টিকর্তা যে কীভাবে ভাগ্য ও জুটি ঠিক করেন, তা এই বিয়ে দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যায়।” যমজ সম্পর্কের এমন অভূতপূর্ব এবং অবাক করা মিলমিশে বর্তমানে মুগ্ধ হয়ে রয়েছে গোটা নেটপাড়া।