সম্পর্কে টানাপোড়েন থেকে টক্সিক ডেটিং! অকপটে শ্বেতা-চৈতন্য, জানুন তারকা জুটির অন্দরের গোপন কথা

কলকাতার ‘দ্য আরবান থিয়েটার প্রজেক্ট’-এ ‘এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স’ নাটকের মঞ্চায়নের ঠিক আগে অভিনেত্রী শ্বেতা ত্রিপাঠী এবং তাঁর স্বামী, অভিনেতা-র‍্যাপার চৈতন্য শর্মা ওরফে স্লোচিটা মুখোমুখি হলেন এক খোলামেলা আড্ডায়। পর্দার চরিত্রের বাইরে বেরিয়ে জীবনের নানা দিক, সম্পর্ক, প্রেম, টক্সিক রিলেশনশিপ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং হিউম্যান কানেকশন নিয়ে অকপটে কথা বললেন এই তারকা দম্পতি।

কলকাতায় পা রেখেই শহরের প্রেমে মজেছেন এই জুটি। কলকাতা প্রসঙ্গে চৈতন্য বলেন, “এই শহরের একটা নিজস্ব গতি আছে। আপনি এখানে এসে নিজের গতি চাপিয়ে দিতে পারবেন না। হলুদ ট্যাক্সি, দারুণ খাবার আর কলকাতার এই নিজের সময়ে চলার ভাইবটাই আলাদা।” অন্যদিকে, শ্বেতার কাছে কলকাতা মানেই রঙ, স্বাদ আর গভীরতা। বিয়ের আগেও তাঁরা এই শহরে ডেটে এসেছিলেন এবং এখানকার কাসুন্দি ও বাঙালি খাবারের প্রতি তাঁদের বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে বলে জানান।

আজকের প্রজন্মের সম্পর্কের সমীকরণ এবং ডেটিং কালচার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁরা তুলে ধরেন এক গভীর সত্য। চৈতন্য মনে করেন, আজকের দিনে আমরা অনেক কিছু জানি কিন্তু বুঝি খুব কম। ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটি আমাদের কানেক্ট করার কথা বললেও আসলে ঘরের মধ্যেই ফোনের মাধ্যমে আমাদের ডিসকানেক্ট করে দিচ্ছে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সরাসরি যোগাযোগ কমে যাওয়ায় ‘হিউম্যান কানেকশন’ এখন একটি দামি সম্পদে পরিণত হয়েছে।

একই সুর শোনা গেল শ্বেতার গলাতেও। ডেটিং অ্যাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ফিল্টার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, মানুষ এখন সম্পর্ককে অনুভব করার চেয়ে সেটাকে বেশি বিশ্লেষণ করছে। রেড ফ্ল্যাগ বা গ্রিন ফ্ল্যাগ খুঁজতে গিয়ে আসল মানুষটাকে বোঝার সময়টুকু আর কারও হাতে নেই। জীবন এতটাই দ্রুত চলছে যে আমরা মানুষকে পর্যাপ্ত সময় দিই না।

সম্পর্কের একঘেয়েমি এবং টক্সিক আকর্ষণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে চৈতন্য বলেন, “মানুষ যখন অন্য কাউকে খোঁজে, তখন আসলে সে নিজের ভেতরের একঘেয়েমি থেকে পালাতে চায়। অথচ শূন্যতাটা নিজের মধ্যেই থাকে।” অন্যদিকে, শ্বেতা জানান যে তিনি অত্যন্ত ‘ওল্ড স্কুল’ এবং কখনোই তথাকথিত ‘ব্যাড বয়’ বা টক্সিক সম্পর্কের প্রতি আকৃষ্ট হননি। দাম্পত্যের চড়াই-উতরাই ও ইগো প্রসঙ্গে এই জুটি স্পষ্ট জানান যে তাঁরা একে অপরের সবচেয়ে বড় সমালোচক এবং চিয়ারলিডার উভয়ই।