এখনই হাত দিতে পারবে না পুলিশ! সুমিত রায়ের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়ে কী নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ?

সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং জমি সংক্রান্ত একাধিক জটিল মামলায় তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী বুধবার পর্যন্ত সুমিত রায়কে পুলিশ বা কেন্দ্রীয় এজেন্সি কোনোভাবেই গ্রেফতার করতে পারবে না। এই হাই-প্রোফাইল আইনি লড়াইয়ে মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি আগামী ১৯ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে সুমিত রায়ের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন ও গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষার আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বিচারপতির এজলাসে সওয়াল করার সময় সুমিত রায়ের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ জোরালো সওয়াল করে জানান যে, তাঁর মক্কেল তদন্তের স্বার্থে সমস্ত তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে শুরু থেকেই সর্বাত্মক সহযোগিতা করে চলেছেন। বিগত ৮ দিনের মধ্যে ইতিমধ্যেই তাঁকে ৬ বার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে এবং তিনি প্ৰতিবারই নিয়ম মেনে হাজিরা দিয়েছেন। সকাল থেকে দীর্ঘ সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা ম্যারাথন জেরা ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। আইনজীবীর এই বিবৃতির ওপর ভিত্তি করেই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সুমিত রায়ের অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

অন্যদিকে, এই মামলার তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে আদালত বিস্তারিত জানতে চায়। মামলার তদন্তের লেটেস্ট আপডেট এবং ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদে ঠিক কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে, সেই সমস্ত তথ্য সম্বলিত একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেন দেশের সলিসিটর জেনেরাল তুষার মেহতা। আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়ে তাঁর এই আবেদন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সানন্দে মঞ্জুর করে। আদালতের এই নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী বুধবার পর্যন্ত সুমিত রায়ের ওপর ঝুলন্ত গ্রেফতারির খাঁড়া সম্পূর্ণ স্থগিত থাকছে।

উল্লেখ্য, এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেলেও, শালবনি এলাকার একটি জমি সংক্রান্ত মামলায় আগাম জামিন না পাওয়ায় সুমিত রায় বাধ্য হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলাতেই শীর্ষ আদালত তাঁর গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছিল। তবে জমি ও চাকরি দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়াও সুমিতের বিরুদ্ধে আরও ৪টি আলাদা এফআইআর দায়ের রয়েছে। সেই কারণে উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্ট থেকে আংশিক স্বস্তি পেলেও নতুন করে গ্রেফতারির আশঙ্কা এড়াতে তিনি ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। যদিও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর সেই জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করে জানিয়ে দেন যে, এই মুহূর্তে মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির মতো কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করেনি। ফলে আদালতের নির্দিষ্ট কার্যতালিকা অনুযায়ীই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।