অভয়াকাণ্ডে বিরাট মোড়! ওড়িশা থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

আর জি কর বা অভয়াকাণ্ডে তথ্য ও প্রমাণ লোপাটের গুরুতর অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন পানিহাটির প্রভাবশালী প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। ওড়িশার সম্বলপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, এর আগে ভোট পরবর্তী হিংসার একটি মামলায় গত ১৩ জুলাই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। আর এবার ঠিক তার ঠিক এক মাস পর অর্থাৎ ১৩ অগাস্ট অভয়াকাণ্ডে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বাবা নির্মল ঘোষ। তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট খোদ পুলিশ কর্তা ও স্বাস্থ্যভবনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতেই তড়িঘড়ি নিহত তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ বের করে নিয়ে গিয়ে সৎকার করা হয়েছিল। এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছেন আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো।

একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে এসে চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, শুরু থেকেই তাঁরা এই ঘটনার পেছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কথা বারবার বলে আসছেন। তাঁর মতে, এই পৈশাচিক ঘটনার সঙ্গে আরও একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে এবং তাদের প্রত্যেককে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা উচিত। সিবিআই তাদের প্রাথমিক চার্জশিটেও প্রমাণ লোপাটের প্রসঙ্গ বারবার তুলে ধরেছে। অনিকেতের প্রশ্ন, যেদিন কলেজ চত্বরে খোদ পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, অ্যাডিশনাল সিপি, ডিসি নর্থ, পুলিশের অসংখ্য পদস্থ কর্তা, স্বাস্থ্যভবনের আধিকারিক, মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রতিনিধি ও শাসক দলের ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন, ঠিক সেই সময় সেখানে দাঁড়িয়ে কীভাবে নির্মল ঘোষ একা সিদ্ধান্ত নিলেন যে মৃতদেহটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বের করে সৎকার করে দেওয়া দরকার? এই প্রশ্ন থেকেই পরিষ্কার যে এর পেছনে অনেক বড় কোনো চাল বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।

নির্মল ঘোষকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এবং তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার নেপথ্যের আসল সত্য উদঘাটন করতে চাইছে তদন্তকারী দল। এদিকে, প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেপ্তারের খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পানিহাটি পুরসভার সামনে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী ও বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। ধৃত নেতার ছবি টাঙিয়ে তাতে ডিম ছোড়া হয়, জুতো পেটা করা হয় এবং জুতোর মালা পরানো হয়। এমনকি অনেককে লাথি মারতেও দেখা যায়। আনন্দ প্রকাশ করতে একে অপরকে আবির মাখিয়ে মিষ্টি মুখ করান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভয়ার স্মরণসভায় প্রকাশ্যেই পুলিশকে দ্রুত নতুন মামলা রুজু করে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। এরপরই মৃত চিকিৎসকের বাবার দায়ের করা নতুন এফআইআরের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। নির্মল ঘোষের পাশাপাশি এই মামলায় তাঁর ঘনিষ্ট শাগরেদ তথা স্থানীয় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই হাই-প্রপ্রাইল গ্রেপ্তারের পর আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।