ভুল বুঝেই হেলমেট ছাড়াই বাইক মিছিল! নিজেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে গিয়ে জরিমানা দিলেন বিজেপি জেলা সভাপতি

আসানসোলে আইন অমান্য করার এক অনন্য ও প্রশংসনীয় নজির স্থাপন করলেন বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য। সাধারণ মানুষ যখনই ট্রাফিক আইন ভাঙার পর পুলিশের নজর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, ঠিক সেই বিপরীত পথে হেঁটে নিজের ভুল স্বীকার করে নিজেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে হাজির হলেন এই বিজেপি নেতা। শুধু তাই নয়, নিজের নামে জরিমানার চালানও কাটিয়ে শহরের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার বিকেলে। আসানসোলের মহিশীলা এলাকায় আয়োজিত একটি বাইক মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন দেবতনু ভট্টাচার্য। কিন্তু সেই মিছিলে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ বাইক চালকের মাথাতেই ছিল না হেলমেট। এমনকি, খোদ বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু নিজেও কোনো রকম হেলমেট ছাড়াই ওই বাইক মিছিলে অংশ নেন। ঘটনার আকস্মিকতায় শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কারণ গত কয়েক দিন ধরেই আসানসোল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে নিজের ভুল বুঝতে পেরে বাকিদের মতো বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি দেবতনু। মিছিল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের বাইক নিয়ে তিনি সরাসরি আসানসোলের হটন রোড মোড়ের ট্রাফিক পোস্টে পৌঁছে যান। সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সপষ্ট জানান যে, বাইক চালানোর সময় তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল না এবং তিনি আইন ভেঙেছেন। নিজের এই ভুলের জন্য তিনি নিজেই ট্রাফিক পুলিশকে জরিমানার চালান কাটার অনুরোধ জানান। দেবতনুর এমন সৎসাহস দেখে হতবাক হয়ে যান ট্রাফিক আধিকারিকরা। এরপর নিয়ম অনুযায়ী অনলাইন চালান কেটে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে এই ঘটনা নিয়ে শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ইতিবাচক চর্চা শুরু হয়। নিজের সাফাই দিতে গিয়ে দেবতনু ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এই বাইক মিছিল হবে এমন কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা তথ্য তাঁর কাছে আগে থেকে ছিল না। তাঁর সম্পূর্ণ ধারণা ছিল যে অন্যান্য জায়গার মতোই হাতে তেরঙা পতাকা নিয়ে সাধারণ পদযাত্রা বা হেঁটে মিছিল হবে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কর্মী-সমর্থকদের অতিরিক্ত উৎসাহ ও জোরাজুরিতে তিনি বাইক মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য হন। সেই মুহূর্তে নিজের মাথায় হেলমেট না থাকায় তিনি বুঝতে পারেন যে কাজটি সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ হয়েছে।

রাজনীতির ময়দানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইন ভাঙার অভিযোগ এবং পুলিশের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু নিজের দলের পদ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা ভুলে গিয়ে প্রকাশ্যেই নিজের ভুল স্বীকার করে পুলিশের কাছে জরিমানা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। দেবতনুর এই সাহসী পদক্ষেপকে অনেকেই একটি শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের কাছে এটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, দেশের আইন সবার জন্যই সমান। নিজের আচরণের মধ্য দিয়ে তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের কাছেও ভবিষ্যতে কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। দেবতনু নিজেই জানিয়েছেন যে আইন সবার জন্য এক এবং আগামী দিনে যাতে এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নজরে রাখবেন। বৃহস্পতিবারের এই বাইক মিছিল তাই দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির গণ্ডি সম্পূর্ণ ছাড়িয়ে আসানসোলের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।