লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে আল-কায়েদার যোগ! রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বড় সতর্কবার্তা

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ঘটা ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগের কথা প্রকাশ্যে এল। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা কাউন্সিলের মনিটরিং টিমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে সংঘটিত ওই বিস্ফোরণের পিছনে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দা (Al-Qaeda)-র প্রত্যক্ষ হাত ছিল। বিস্ফোরণে যুক্ত ছিল আল-কায়দার সহকারী সংগঠন Al-Qaida in the Indian Subcontinent (AQIS), যা মূলত আফগানিস্তানে সক্রিয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশেও তাদের নাশকতামূলক নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের মনিটরিং টিমের বিস্ফোরক প্রতিবেদন

রাষ্ট্রপুঞ্জের মনিটরিং টিমের রিপোর্টে আন্তর্জাতিক স্তরে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার এই শাখাটি (AQIS) সরাসরি তালিকাভুক্ত না থাকলেও, তারা মূল আল-কায়েদার গোপন সেল হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব রসদ এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্রিয় রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লায় যখন এই বিস্ফোরণ ঘটেছিল, সে সময়ই প্রাথমিক তদন্তে এই হামলার দায় AQIS-এর ওপর বর্তেছিল। এমনকি এই সংগঠন যে তাদের নাশকতার সেল প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট বা ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, সেই আশঙ্কাও রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়েছে।

লালকেল্লার বিস্ফোরণ ও এনআইএ (NIA) তদন্ত

২০২৫ সালের ১০ই নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে একটি গাড়িতে রাখা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা হাতে তৈরি বিস্ফোরক ফেটে ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বিস্ফোরণে মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

  • প্রধান অভিযুক্ত: জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দীর্ঘ তদন্তের পর ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টির প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক উমর উন-নবীকে এই বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে। তদন্তে জানা যায়, ওই বিস্ফোরণেই তাঁরও মৃত্যু হয়েছিল।

  • সন্ত্রাসী মডিউল: এনআইএ-র তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ওই জঙ্গিদের মডিউলটি মূলত AQIS-এর সঙ্গেই যুক্ত ছিল এবং একটি বৃহত্তর সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রপুঞ্জের মনিটরিং কমিটির রিপোর্টে এও সতর্ক করা হয়েছে যে, AQIS নতুন নতুন স্লিপার সেল তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি এবং কার্যকলাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।