রাখি আসতেই বাজারে উপচে পড়া ভিড়! কোন বিশেষ নকশার টানে এবার নজির গড়ছে কালনার কারিগররা?

পবিত্র রাখি পূর্ণিমা যত দ্রুত এগিয়ে আসছে, ততই যেন উত্তেজনায় ফুটছে বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কালনা শহরের রাখির বাজার। তবে এবছরের রাখি বাজারের সম্পূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে একেবারে বিশেষ কিছু আকর্ষণীয় রাখি। গেরুয়া রঙের কাপড়ের উপর নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা পদ্মফুল এবং তার ঠিক মাঝখানে খোদাই করা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান—সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। ঐতিহ্যবাহী কালনা থেকে শুরু করে খাস কলকাতা, আর কলকাতার নামী ব্যবসায়ীদের হাত ধরে সেই সমস্ত বিশেষ রাখি এখন সোজা পৌঁছে যাচ্ছে রামভূমি অযোধ্যাতেও।
উৎসবের এই কাউন্টডাউন শুরু হতেই কালনার বিখ্যাত জগন্নাথতলা এলাকার স্থানীয় কুটিরশিল্পীদের এখন দম ফেলার বিন্দুমাত্র সময় নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে অবিরাম গতিতে চলছে অভিনব এই রাখি তৈরির কাজ। স্থানীয় শিল্পীদের দাবি, বর্তমান বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবছর এই বিশেষ রাখিগুলো রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে। কালনার বিভিন্ন কারখানা থেকে পাইকারি দরে সেই রাখি প্রথমে কলকাতায় পাঠানো হচ্ছে, এবং সেখান থেকে ব্যবসায়িক সূত্রে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যাসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে।
তবে শুধু ‘জয় শ্রীরাম’ বা পদ্মফুলের নকশাই নয়, কালনার শিল্পীদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি এই বিশাল সম্ভারে আরও রয়েছে রাধাকৃষ্ণ, ময়ূর, জগন্নাথ দেবের ছবির পাশাপাশি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শ্রীসারদা দেবী, স্বামী বিবেকানন্দ, সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং ভারতমাতার পবিত্র প্রতিকৃতি সম্বলিত নানা বৈচিত্র্যময় রাখি। প্রতি বছরই কালনার জগন্নাথতলার কুটিরশিল্পে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী রাখির আলাদা কদর থাকে, কিন্তু এবারের সিজনে ‘জয় শ্রীরাম’ লেখা এবং পদ্মফুলের ছাপ দেওয়া রাখি সমস্ত পূর্বের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
যদিও এবছর এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি তরফ থেকে বড় কোনো বরাত বা অর্ডার আসেনি, তবুও সাধারণ পাইকারি ও খুচরা বাজারের প্রচুর অর্ডারের চাপে শিল্পীদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। কারিগরদের মনে প্রবল আশা রয়েছে যে, রাখি পূর্ণিমার ঠিক আগের শেষ মুহূর্তগুলোতে আরও বড় অঙ্কের অর্ডার আসবে। ফলে বাংলার ছোট শহর কালনার সাধারণ শিল্পীদের হাতের জাদুতে তৈরি এই সমস্ত শৈল্পিক রাখি এবার রাজ্যের গণ্ডি সফলভাবে পার করে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে রামভূমি অযোধ্যার বাজারেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করবে। এই বিষয়ে এক স্থানীয় শিল্পী তনুশ্রী মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে জানান, “রাখির চাহিদা প্রতি বছরই ভালো থাকে, তবে এবছর সেই উন্মাদনা যেন অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আমি গত চার বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আছি এবং এবছর প্রচুর রাখি তৈরি করেছি। বিশেষ করে ‘জয় শ্রী রাম’ লেখা রাখিগুলোর চাহিদা বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি।”