রান্নাঘরে আরশোলার উপদ্রবে টিকতে পারছেন না? মাত্র ৫টি ঘরোয়া টোটকায় চিরতরে দূর করুন এই ভয়ংকর পোকা!

আরশোলা (Cockroach) দেখলেই অনেকের গা ঘিনঘিন করে ওঠে। বিশেষ করে রান্নাঘর বা বাথরুমে যদি এদের দেখা মেলে, তবে বিরক্তির আর অন্ত থাকে না। মনে হয় যেন গোটা বাড়িটাই অপরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, এরা খাবারের সংস্পর্শে এসে নানা রকম ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই বিরক্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বাজার থেকে নানা ধরনের দামি রাসায়নিক স্প্রে কিনে আনেন। কিন্তু তাতে সাময়িকভাবে কাজ হলেও, অল্পদিনের মধ্যে আবার যে কে সেই! ফ্রিজ বা বেসিনের অন্ধকার কোণায় ঠিক এদের নতুন আস্তানা গড়ে উঠতে পারে। তবে এই নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। আপনার হাতের কাছে রান্নাঘরেই এমন কিছু সাধারণ উপাদান রয়েছে, যা এই আরশোলার উৎপাত অনেকটাই কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বাজারের কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহার না করে, এই ঘরোয়া উপায়ে তাড়ানোর চেষ্টা করুন:
১. বেকিং সোডা এবং চিনি: আরশোলা নিয়ন্ত্রণে এই মিশ্রণটি একটি দারুণ ঘরোয়া উপায় হিসেবে কাজ করে। চিনি আরশোলাকে সহজেই আকৃষ্ট করতে পারে, আর বেকিং সোডা তাদের শরীরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। সমপরিমাণে এই দুটি জিনিস ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর রান্নাঘরের যেসব জায়গায় এদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি, যেমন সিঙ্কের নিচে, ফ্রিজের পাশে বা কিচেন ক্যাবিনেটের অন্ধকার কোণায়, খাবার ও বাসনপত্র থেকে দূরে অল্প পরিমাণে রেখে দিতে পারেন।
২. তেজপাতা: বাঙালির রান্নার অন্যতম প্রধান উপাদান তেজপাতা। এই তেজপাতার কড়া ও তীব্র গন্ধ আরশোলাকে দূরে রাখতে দারুণ সাহায্য করতে পারে। কয়েকটি তেজপাতা হাত দিয়ে একটু গুঁড়ো করে নিন। তারপর সেগুলো আলমারির ভেতরে, স্টোর রুমে বা রান্নাঘরের বিভিন্ন কোণায় রেখে দিতে পারেন। তবে এটিকে আরশোলা নিয়ন্ত্রণের নিশ্চিত নিরাময় না ভেবে, একটি কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিরোধমূলক পদ্ধতি হিসেবেই ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
৩. রসুন এবং পেঁয়াজের পেস্ট: রসুন আর পেঁয়াজের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ আরশোলাকে দূরে সরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এই দুটোর একটি ঘন পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর জলের পাইপের মুখে বা আরশোলার ঢোকার সম্ভাব্য ফাটলের আশপাশে অল্প করে এটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে রান্নাঘরের খাবার বা খাবার রাখার পাত্রের কাছাকাছি এই মিশ্রণ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
৪. শসার খোসা: শুনতে অবাক লাগলেও, শসার খোসা আরশোলা দূরে রাখার একটি বেশ প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি। তাজা শসার খোসা কেটে রান্নাঘরের বিভিন্ন কোণায় কোণায় রাখতে পারেন। তবে এর কার্যকারিতা সব সময় নিশ্চিত নয় এবং খোসা অনেকক্ষণ পড়ে থাকলে পচে গিয়ে উল্টে অন্যান্য পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করতে পারে। তাই এটি ব্যবহার করলে নিয়মিত খোসা বদলে ফেলুন এবং রান্নাঘর পরিষ্কার রাখুন।
৫. কমলালেবু বা পাতিলেবুর খোসা: লেবুর খোসায় থাকা প্রাকৃতিক তেলের সুবাস কিছু পোকামাকড়কে দূরে রাখতে সাহায্য করে। আপনি চাইলে লেবুর খোসা কাজে লাগাতে পারেন। কিচেন ক্যাবিনেটের আশেপাশে এগুলো রাখলে রান্নাঘরেও এক দারুণ সতেজ গন্ধ থাকবে। তবে এটিও আরশোলা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার কোনো নিশ্চিত উপায় নয়।
সবশেষে একটা কথা মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি, আসল কাজ হল ঘর সবসময় ঝকঝকে ও পরিষ্কার রাখা। খাবার সবসময় ভালোভাবে ঢাকা দিয়ে বা এয়ার টাইট কৌটোতে সংরক্ষণ করুন। বেসিনের জলের পাইপ লিক করলে তা দ্রুত সারিয়ে ফেলুন। দেওয়াল বা মেঝের কোনো ফাটল থাকলে তা বুজিয়ে ফেলুন এবং রোজকার ময়লা প্রতিদিন নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলে দিন। রান্নাঘরে জল বা খাবারের অবশিষ্টাংশ জমতে দেবেন না। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আরশোলার ঢোকার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করলেই এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।