লালকেল্লায় সর্বকালের সেরা নিরাপত্তা! ২০ হাজার জওয়ান, অ্যান্টি-ড্রোন ও এফআরএস নজরদারিতে দুর্ভেদ্য হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস

আসন্ন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশের ঐতিহাসিক লালকেল্লাকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব ও কড়া নিরাপত্তার বলয় তৈরি করেছে দিল্লি পুলিশ এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা। ভূমি থেকে আকাশ—সর্বত্র বহুমুখী নজরদারির মাধ্যমে লালকেল্লাকে এক প্রকার দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। ১৫ই আগস্টের এই জাতীয় অনুষ্ঠানকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে মোতায়েন করা হচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

পাহাড়প্রমাণ নিরাপত্তা ও জওয়ান মোতায়েন: আগামী ১৫ই আগস্ট লালকেল্লার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হবে। শুধু তাই নয়, লালকেল্লার চারপাশের উঁচু ভবন এবং বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে অতন্দ্র প্রহরায় থাকবেন অভিজ্ঞ স্নাইপাররা। নিরাপত্তা কেবল স্থলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; যমুনা নদীতে বিশেষ টহলদারির পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী সংবেদনশীল এলাকাগুলোতেও বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিতে তল্লাশি চালিয়ে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে এ বছর একাধিক হাই-টেক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে:

  • সিসিটিভি ও এফআরএস (FRS): পুরো চত্বর পর্যবেক্ষণের জন্য ফেস রিকগনিশন সিস্টেম (FRS) যুক্ত প্রায় ১,০০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে কোনো সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করতে পুলিশের ‘অভিজ্ঞান’ অ্যাপও ব্যবহার করা হবে।

  • অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ও এএনপিআর (ANPR): আকাশপথে যেকোনো সম্ভাব্য ড্রোন বা aerial হুমকি মোকাবিলায় শক্তিশালী অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, লালকেল্লায় যাতায়াতকারী সমস্ত গাড়ির ওপর নজর রাখতে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ (ANPR) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

  • গণগণনা ও ট্রিপ ওয়্যার: লালকেল্লা চত্বরে লোক গণনা পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে অনুষ্ঠান শেষে কোনো অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তি চত্বরে না থাকে। পাশাপাশি ‘অ্যাবান্ডেন্ট অবজেক্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে কোনো স্থানে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা ব্যাগ পড়ে থাকলেই তৎক্ষণাৎ তা ধরা পড়বে।

ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ ও ‘নো-ফ্লাই জোন’: নিরাপত্তার খাতিরে লালকেল্লা এবং তার পার্শ্ববর্তী সমস্ত আকাশপথকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি লালকেল্লা ও তার আশপাশের এলাকায় ঘুড়ি ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশ কার্যকর করতে বিশেষ ঘুড়ি ধরার দলও মাঠে নামানো হয়েছে। মহাত্মা গান্ধী মার্গ, নেতাজি সুভাষ মার্গ, জামা মসজিদ, পুরানো দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন সহ সংলগ্ন সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ চত্বর বর্তমানে কড়া সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রয়েছে।