চলমান যুদ্ধের মাঝেই ইরানে বিরাট রদবদল! শীর্ষ ৭ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে সরালেন খামেনি, নেপথ্যের বার্তা কী?

চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের আবহের মাঝেই ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় এক অভাবনীয় ও বড় ধরনের রদবদল ঘটল। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক ও সামরিক স্তরে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), নৌবাহিনী এবং বাসিজ বাহিনীর ৭ জন শীর্ষ পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বেশি সুসংহত ও কড়া হাতে পরিচালনা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির শীর্ষপদে নতুন মুখ: ইরানের এই পরিবর্তনগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহিকে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন ‘চিফ অফ স্টাফ’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। পূর্বে রেভল্যুশনারি গার্ডসে কর্মরত এবং পেশাদার পাইলট আলী আবদুল্লাহির পাশাপাশি, সেনাবাহিনী থেকে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিউমার্স হায়দারিকে নতুন ‘ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ’ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শাখা আইআরজিসি-র নেতৃত্বেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ভাহিদিকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে আইআরজিসি-র নতুন সর্বাধিনায়ক (Commander-in-Chief) পদে বসানো হয়েছে। এছাড়া মেজর জেনারেল মুস্তফা ইজাদিকে আইআরজিসি-র ডেপুটি কমান্ডার, রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী আজমায়ীকে আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার এবং হুজ্জাতুল ইসলাম ভালমুসলিমিন হোসেইন তাইবকে দেশটির শক্তিশালী আধা-সামরিক বাহিনী ‘বাসিজ প্রতিরোধ বাহিনী’র প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

মোহসেন রেজাইয়ের প্রত্যাবর্তন: এই বড় রদবদলের ঠিক কিছুদিন আগেই সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহসেন রেজাইকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে নিজের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন খামেনি, যিনি মোহাম্মদ বাকির যোলকদরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতিতে খামেনির এই একের পর এক কড়া নিয়োগ ও রদবদল আসলে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল বদলে ফেলার এবং যেকোনো বাহ্যিক আগ্রাসন মোকাবিলায় চরম প্রস্তুতিরই স্পষ্ট বার্তা দেয়।