সুপ্রিম স্বস্তির পরেই হাইকোর্টে বড় জয় অভিষেকের! কড়া প্রশ্নের মুখে পড়ল ইডি ও রাজ্য?

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার ঠিক পরের দিনই মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৬টি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই সমস্ত মামলার মধ্যে এর আগে ১৩টি মামলায় আইনি রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন অভিষেক। বাকি ৩টি মামলার ক্ষেত্রেও নতুন করে রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়ে তাঁর আইনজীবীরা আদালতের দারস্থ হন। এদিনের শুনানিতে সেই মামলাগুলিতেও বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর ওপর আইনি সুরক্ষার মেয়াদ বৃদ্ধি করল আদালত।

এদিন মূলত কলিতলা থানা, বিষ্ণুপুর থানা এবং ভবানীপুর থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলির শুনানি চলছিল। শুনানিপর্বে রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু রক্ষাকবচের তীব্র বিরোধিতা করে সওয়াল করেন যে, এই ধরনের আবেদনের কোনো আইনি গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং অন্তর্বর্তী কোনো নির্দেশ না দিয়ে বরং তাঁর আগাম জামিনের আবেদন করা উচিত ছিল। পাশাপাশি রাজু দাবি করেন যে, সাংসদের বিরুদ্ধে অবৈধ খননকার্য থেকে আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন যে, এই অভিযোগগুলি কি সেই অভিরূপ দাস (ববি) করেছেন যিনি তাঁর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন? এফআইআর দায়ের করতে কেন এত বিলম্ব হলো, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি জানান যে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাক, কিন্তু অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, মামলাকারীদের এক আইনজীবী সওয়ালে দাবি করেন যে বিষ্ণুপুরে ৭ লক্ষ ভোটে জেতা সত্ত্বেও সেখানে অত ভোটারই নেই এবং মামলাকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তাঁকে জেলে রেখে জেরা করা প্রয়োজন।

তবে এই যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই এতই প্রভাবশালী হন, তবে আমতলায় তাঁর পার্টি অফিস ভাঙা হলো কেন এবং আদালতের কেন সেখানে হস্তক্ষেপ করতে হলো? বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলার আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।