ইরানে সরকার বদলের মহাছক ফাঁশ! মোসাদে বড়সড় পদক্ষেপে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি

ইরানে সরকার বদলের একটি বড়সড় পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইজরায়েলের বিখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দুই সিনিয়র অফিসারকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোসাদের ডিরেক্টর রোমান গফম্যান এই দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এটি তাদের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মাত্র।
সরিয়ে দেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন গত ডিসেম্বর থেকে মোসাদের ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যজন সরাসরি সংস্থার ইরান ডিভিশনের গুরুদায়িত্বে ছিলেন। চ্যানেল ১২-এর রিপোর্টে প্রকাশ, এই দুই কর্মকর্তা ইরানে ইসলামিক রিপাবলিক সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর একটি অত্যন্ত গোপন অপারেশনাল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিলেন। তাঁদের মূল পরিকল্পনা ছিল ইরানের বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়া এবং সরকারের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভে উস্কানি তৈরি করে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি চরম অস্থিতিশীল করে তোলা। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন, গত ফেব্রুয়ারিতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই বিশেষ পরিকল্পনাটি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেছিলেন, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে ট্রাম্পকে রাজি করানো যায়।
নিরাপত্তা সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডিরেক্টর গফম্যানের সঙ্গে ওই দুই শীর্ষ অফিসারের নীতিগত মতবিরোধ ছিল দীর্ঘদিনের। তবে মোসাদ সূত্রে জানানো হয়েছে, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই তাঁদের সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা সংস্থাতেই অন্য পদে কাজ চালিয়ে যাবেন। এদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন জানাচ্ছে যে মোসাদের এই গোপন সরকার বদলের কৌশলের অন্যতম অঙ্গ ছিল ইরাক সীমান্তে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র ঘাঁটিতে বিমান হ্রামলা চালানো। বিশেষ করে ইরানের কুর্দিস্তান অঞ্চলে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে কুর্দ যোদ্ধারা খুব সহজেই দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং উত্তর-পশ্চিমের কুর্দ-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
এই কৌশলের পেছনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হাজার হাজার কুর্দ তরুণকে সশস্ত্র করে তেহরান পর্যন্ত একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলা। এমনকি এই গোপন পরিকল্পনায় ইরানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে পুনরায় দেশের ক্ষমতায় বসানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, আহমাদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়েছিল ইজরায়েল। হাঙ্গেরির একটি অ্যাকাডেমিক সম্মেলনের ফাঁকে তৎকালীন মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সঙ্গে তাঁর একটি গোপন বৈঠকের খবরও সামনে এসেছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কূটনৈতিক সমীকরণ। তুরস্কের জোরালো কূটনৈতিক চাপ এবং কুর্দ গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত ইজরায়েলের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা প্রথমে বিশ্বাস করলেও পরবর্তীতে নেতানিয়াহুর এই সরকার বদলের রূপরেখাকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেন।