এক ট্রেনেই ৭ জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন! পুণ্যার্থীদের জন্য বিরাট সুযোগ আনল আইআরসিটিসি, কবে থেকে শুরু যাত্রা?

ধর্মীয় পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য করে তুলতে এক অভিনব ও আকর্ষণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করল ভারতীয় রেল। ভারতীয় রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে ‘ভারত গৌরব ডিলাক্স এসি ট্যুরিস্ট ট্রেন’। এই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এবার এক অনন্য আধ্যাত্মিক সার্কিট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘সপ্ত জ্যোতির্লিঙ্গ মহাযাত্রা’। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেশের রাজধানী দিল্লির সফদরজং রেল স্টেশন থেকে এই বিশেষ ট্রেনটির শুভ সূচনা হতে চলেছে।

সম্পূর্ণ ১১ দিনের এই জাঁকজমকপূর্ণ আধ্যাত্মিক সফরে যাত্রীরা মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রের অত্যন্ত পবিত্র ও বিখ্যাত সাতটি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের সুযোগ পাবেন। এই রোমাঞ্চকর ও ভক্তিময় সফরের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মধ্যপ্রদেশের মহাকালেশ্বর (উজ্জয়িনী) ও ওঙ্কারেশ্বর, গুজরাতের নাগেশ্বর ও সোমনাথ এবং মহারাষ্ট্রের ভীমাশঙ্কর, ঘৃষ্ণেশ্বর ও ত্র্যম্বকেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ।

এই বিশেষ যাত্রার প্রথম পর্বে মধ্যপ্রদেশে পৌঁছে উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক পরিক্রমা শুরু হবে। এরপর ভক্তরা পবিত্র নর্মদা নদীর তীরে অবস্থিত ওঙ্কারেশ্বর মন্দির পরিদর্শন করবেন। যাত্রার পরবর্তী ধাপে ট্রেনটি পৌঁছবে গুজরাতের দ্বারকায়। সেখানে হিন্দুধর্মের চারধামের অন্যতম প্রধান দ্বারকাধীশ মন্দির, ঐতিহাসিক রুক্মিণী দেবী মন্দির, নাগেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ এবং পবিত্র বেট দ্বারকা দর্শনের চমৎকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, সোমনাথে গিয়ে ভারতের প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দির, মনোরম সোমনাথ সমুদ্র সৈকত এবং পবিত্র ভালকা তীর্থ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন পুণ্যার্থীরা।

মহারাষ্ট্র পর্বে এই বিশেষ যাত্রার মাধ্যমে পুণের নিকটবর্তী ভীমাশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ, ছত্রপতি সম্ভাজীনগর বা ঔরঙ্গাবাদে অবস্থিত ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এলোরার কৈলাস মন্দির এবং শিবভক্তদের অত্যন্ত পবিত্র ঘৃষ্ণেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করানো হবে। এই দীর্ঘ ও পুণ্যময় সফরের একেবারে শেষ গন্তব্য হিসেবে থাকছে নাসিকের ত্র্যম্বকেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ এবং ঐতিহাসিক পঞ্চবটী, যেখানে পৌরাণিক যুগ অনুযায়ী শ্রীরাম, মাতা সীতা এবং লক্ষ্মণ তাঁদের বনবাসের সময় বেশ কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন বলে লোকবিশ্বাস রয়েছে।

যাত্রীদের আরাম, স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে আইআরসিটিসির পক্ষ থেকে এই ট্যুরে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ট্রেনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন AC-III, AC-II এবং AC-I শ্রেণির বিলাসবহুল কেবিন, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা, কড়া নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং অভিজ্ঞ ট্যুর ম্যানেজারের উপস্থিতি পুরো সফরটিকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে। ট্রেনে একটানা রাত কাটানোর ধকল এড়াতে বিভিন্ন গন্তব্যে নামী ও মানসম্মত তিনতারা হোটেলে রাত্রিযাপনের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এই এক্সক্লুসিভ ট্যুর প্যাকেজের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ডবল অকুপেন্সির ভিত্তিতে। AC-III শ্রেণির জন্য প্রতি ব্যক্তি খরচ পড়বে ৯০,৯৩০ টাকা, AC-II শ্রেণির ক্ষেত্রে খরচ হবে ১,০৯,৯২৫ টাকা এবং সর্বাধুনিক AC-I শ্রেণির জন্য ধার্য করা হয়েছে ১,১৯,৪২৫ টাকা প্রতি ব্যক্তি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারত গৌরব ট্রেন প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় রেলের প্রায় ৩৩ শতাংশ বা এক তৃতীয়াংশ ভর্তুকি এই নির্দিষ্ট প্যাকেজ মূল্যের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এসি ট্রেন ভ্রমণ, মানসম্মত থ্রি-স্টার হোটেলে থাকার সুব্যবস্থা, যাত্রার পুরো সময় জুড়েই সম্পূর্ণ নিরামিষ আহারের বন্দোবস্ত, স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলিতে ঘোরার জন্য এসি গাড়ি, যাত্রীদের জন্য দুর্ঘটনা বিমা কভার এবং আইআরসিটিসির পেশাদার ট্যুর ম্যানেজারের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা। শিবভক্ত ও আধ্যাত্মিক পর্যটকদের সুবিধার জন্য আইআরসিটিসির অফিসিয়াল পর্যটন পোর্টাল এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অনুমোদিত আইআরসিটিসি ট্যুরিজম অফিসের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই এই বহু প্রতীক্ষিত তীর্থযাত্রার অ্যাডভান্স বুকিং প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে।