“বাংলার জন্য কোন ২ বড় ইচ্ছে…?”-কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ করতে চান অর্থমন্ত্রী?

মিলন মেলা প্রাঙ্গণে মহাসমারোহে শুরু হলো বস্ত্রশিল্প মেলা। বৃহস্পতিবার সেই মেলার শুভউদ্বোধন করতে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক দিল্লি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বাংলার বস্ত্র ও চা শিল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কী সুনির্দিষ্ট ভাবনা রয়েছে, এদিন তা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন মুখ্যমন্ত্রী।
১. নির্মলা সীতারামনের দুই মনবাঞ্ছনা
সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অর্থমন্ত্রী বাংলার জন্য মূলত দুটি বিশেষ ক্ষেত্রে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন:
প্রথমত: চা-শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য বিশেষ কিছু করতে চান নির্মলা সীতারামন।
দ্বিতীয়ত: বাংলায় একটি শক্তিশালী টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি বা বস্ত্রশিল্প গড়ে তোলার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর।
২. শান্তিপুরের তাঁতবস্ত্র দেখে মুগ্ধ অর্থমন্ত্রী
বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বর্ধমানের পূর্বস্থলী এবং নদিয়ার শান্তিপুরে গিয়েছিলেন। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী এবং উন্নতমানের তাঁতবস্ত্রের শিল্পকলা দেখে তিনি অত্যন্ত অভিভূত হয়েছিলেন। আর সেই কারণেই বাংলার তাঁতশিল্প ও তাঁতিদের নিয়ে বড় কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর মাথায়। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২২ থেকে ২৮ অগাস্টের মধ্যে কলকাতায় আসছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই সফরে রাজ্যের বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ৮ থেকে ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিশেষ বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।
৩. মিলন মেলা থেকে অর্থনৈতিক বার্তা ও রাজ্য সরকারের ভূমিকা
এদিনের মেলা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন যে, এই বস্ত্রশিল্প মেলা থেকে প্রায় ৫০০ কোটি থেকে ১০০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন হতে পারে। ব্যবসা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি সুরাত থেকে কাঁচামাল আসায় ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন বলে তিনি জানান।
বস্ত্রশিল্পের প্রসারে রাজ্য সরকার সবরকম সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রয়োজনে এই শিল্পের স্বার্থে আইনি ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে এবং প্রয়োজনে তা বিধানসভায় পাশ করানো হবে।