নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ডিভাইডারে ধাক্কা! মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল গ্যাংস্টার আতিকের ছোট ছেলে

প্রয়াগরাজ থেকে ঝাঁসি যাওয়ার পথে একটি মর্মান্তিক ও ভয়ংকর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রয়াত গ্যাংস্টার আতিক আহমেদের কনিষ্ঠ পুত্র আবান আহমেদ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে একটি হুন্ডাই ক্রেটা এসইউভি গাড়িতে চেপে ঝাঁসি জেলে বন্দী নিজের বড় ভাই আলি আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। সেই যাত্রাপথেই হাইওয়ের ওপর গাড়িটি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে একটি ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। গাড়ির গতি এতটাই বেশি ছিল যে দুর্ঘটনার অভিঘাতে সেটির সামনের অংশ সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে একটি ভাঙারি গাড়ির রূপ নেয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চলন্ত গাড়ির সামনে হঠাৎ একটি প্রাণী চলে আসায় সেটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন চালক। সেই মুহূর্তের বিভ্রান্তিতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি সজোরে ডিভাইডারে আছড়ে পড়ে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনার পরেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, যে গাড়িটি এই মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলো, তার আসল সুরক্ষা মান বা সেফটি রেটিং কেমন? চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক হুন্ডাই ক্রেটার ক্র্যাশ টেস্ট রেটিং, এর বিল্ট-ইন সেফটি ফিচার্স এবং হাইওয়েতে এই ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য চালকদের কোন কোন বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
জনপ্রিয় কমপ্যাক্ট এসইউভি হিসেবে হুন্ডাই ক্রেটা ভারতে সর্বাধিক বিক্রিত গাড়িগুলোর একটি হলেও এর গ্লোবাল সেফটি রেটিং নিয়ে অতীতে বহু বিতর্ক হয়েছে। ২০২২ সালে গ্লোবাল এনক্যাপ (GNCAP)-এর পরীক্ষায় এর পুরনো প্রি-ফেসলিফ্ট মডেলটি প্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে ১৭ নম্বরের মধ্যে মাত্র ৮ স্কোর করে ৩-স্টার রেটিং অর্জন করেছিল। এমনকি সেই সময় গাড়িটির বডিসেল বা কাঠামোকে অস্থিতিশীল বলেও চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে আধুনিক নতুন ক্রেটা মডেলটি এএসইএএন এনক্যাপ (ASEAN NCAP)-এ মোট ৭৫.৭৮ পয়েন্ট অর্জন করে ৫-স্টার সেফটি রেটিং নিজের নামে করেছে। যদিও ভারতে ভারত এনক্যাপ (Bharat NCAP)-এর অধীনে এটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষিত নয়, তবে এর সমগোত্রীয় মডেল কিয়া সেলটস ঠিকই বিএনসিএপিতে ৫-স্টার রেটিং পেয়ে প্রমাণ করেছে যে আধুনিক কাঠামোগত পরিবর্তন ও অতিরিক্ত স্ট্যান্ডার্ড সুরক্ষা ফিচারের কারণে নতুন প্রজন্মের গাড়িগুলোর বাস্তব পারফরম্যান্স অনেক বেশি উন্নত হয়েছে।
আধুনিক হুন্ডাই ক্রেটাতে যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে একটি শক্তিশালী প্যাকেজ রাখা হয়েছে। এর সমস্ত ভ্যারিয়েন্টেই স্ট্যান্ডার্ড ফিচার হিসেবে ছয়টি এয়ারব্যাগ (ড্রাইভার, প্যাসেঞ্জার, সাইড এবং কার্টেন) দেওয়া থাকে। এছাড়া প্রতিটি সিটেই অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম (ABS) সহ EBD, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল (ESC), ভেহিকল স্ট্যাবিলিটি ম্যানেজমেন্ট (VSM), হিল স্টার্ট অ্যাসিস্ট, টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম (TPMS), ISOFIX চাইল্ড সিট মাউন্ট এবং থ্রি-পয়েন্ট সিটবেল্টের মতো অত্যন্ত জরুরি সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গাড়িটির উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টগুলোতে লেভেল-২ এডিএএস (হুন্দাই স্মার্টসেন্স) প্রযুক্তিও দেওয়া হয়, যার মধ্যে ফরোয়ার্ড কলিশন অ্যাভয়ডেন্স, ব্লাইন্ড স্পট ওয়ার্নিং, স্মার্ট ক্রুজ কন্ট্রোল এবং লেন কিপ অ্যাসিস্টসহ মোট ১৯টি আধুনিক ফিচার রয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলো চালককে অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করতে পারে, তবে অত্যন্ত উচ্চ গতি এবং হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো পরিস্থিতিতে চালকের নিজস্ব উপস্থিতবুদ্ধি ও সতর্কতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের অনভিপ্রেত সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য হাইওয়েতে গাড়ি চালানোর সময় কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, মহাসড়কে সবসময় নির্ধারিত গতিসীমা কঠোরভাবে মেনে চলুন। রাস্তায় হঠাৎ কোনো পশুপাখি বা অপ্রত্যাশিত বাধা চলে এলে বিনা কারণে আকস্মিক হার্ড ব্রেক কড়ার পরিবর্তে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদভাবে লেন পরিবর্তন করুন। গাড়ি চালানোর সময় চালক ও যাত্রীদের জন্য সিটবেল্ট পরা বাধ্যতামূলক করা উচিত এবং কোনো অবস্থাতেই ড্রাইভিংয়ের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া দীর্ঘ যাত্রায় ক্লান্ত বোধ করলে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত গাড়ি সার্ভিসিং করানো, টায়ারে সঠিক হাওয়া বজায় রাখা এবং এডিএএস ফিচার চালু রাখা আপনার যাত্রা নিরাপদ করতে পারে। তবে এটি সবসময় মনে রাখা দরকার যে গাড়ি যতই আধুনিক হোক না কেন, প্রযুক্তি আমাদের সুরক্ষায় সাহায্য করে মাত্র, কিন্তু শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।