সংসদে বড় ধাক্কা কেন্দ্রের! বিরোধীদের অনড় অবস্থানের জেরে কি আটকে গেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এফসিআরএ সংশোধনী বিল?

সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, কেন্দ্র ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে কোনও রকম ঐকমত্য না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সংসদে বিতর্কিত ‘ফরেইন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ পেশ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। লোকসভায় দিল্লির বিভিন্ন বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি বিবৃতি দেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছে বিরোধী শিবির। সরকারি সূত্রের দাবি, হট্টগোল কিংবা শোরগোলের পরিবর্তে সুচারু আলোচনা ও সব পক্ষের সর্বসম্মত সহযোগিতার মাধ্যমেই এই বিলটি পাস করাতে চায় শাসকদল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। আগামী ১৩ অগস্ট শেষ হতে চলা সংসদের এই চলতি বাদল অধিবেশন যাতে শান্তিপূৰ্ণভাবে ও নির্বিঘ্নে চলতে পারে, তার জন্য বিরোধী দলগুলির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। গত ১০ দিনের মধ্যে রিজিজুর এটি ছিল দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। তবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মন্ত্রীকে এ বিষয়ে কোনও ধরনের নিশ্চিত আশ্বাসের কথা শোনাননি। উলটো দিকে, কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতারা এই বিলটিকে অত্যন্ত ‘কঠোর’ ও দমনমূলক আখ্যা দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান রূপে তাঁরা এটি কোনওভাবেই পাস হতে দেবেন না।

মূলত এফসিআরএ (FCRA) আইনটি হল এমন একটি সংবিধি, যা ভারতের সমস্ত নাগরিক, বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও, ট্রাস্ট, অ্যাসোসিয়েশন এবং বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলিকে বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ, সিকিউরিটি বা অন্যান্য সামগ্রী গ্রহণ ও তার সঠিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার রূপরেখা প্রদান করে। দেশের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কিংবা সাধারণ জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী হতে পারে এমন যেকোনো বিদেশি তহবিল নির্ভর কার্যকলাপ কঠোরহস্তে দমন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত এই নতুন সংশোধনীতে এনজিওর রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা স্থগিত হয়ে গেলে বিদেশি অনুদানে তৈরি হওয়া স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি সুরক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট পৃথক অথরিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও বিজ্ঞাপিত নতুন নিয়মে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও নির্দিষ্ট রাজ্যের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এবং ধর্মান্তরকরণ প্রক্রিয়াকে অনুমোদিত ধর্মীয় কার্যক্রমের আওতা থেকে পুরোপুরি বাইরে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির তীব্র আপত্তির মূল জায়গাটি হলো, এই প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে এনজিওগুলির অধিকার খর্ব করে সরকারি ক্ষমতা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ভবিষ্যতে ওই সমস্ত সংস্থার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। বিরোধী নেতাদের মতে, এর জেরে এনজিও এবং সমগোত্রীয় অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারের কাছে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়বে এবং বিদেশি অনুদানের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ট্রাস্ট ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থাগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আরএসএস সবকিছু করতে পারে আর অন্য কোনও এনজিও তা পারবে না—এমন পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের এই কঠোর বিল আমরা কিছুতেই পাস হতে দেব না এবং এর বিরুদ্ধে আমাদের তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলন জারি থাকবে।