দীর্ঘ আড়াই বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে বিদেশের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পাকিস্তানের!

অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ—এই দীর্ঘ সফরে দেশের বাইরে টেস্ট ম্যাচ জেতার কথা যেন ভুলেই গিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে খেলা টানা আটটি টেস্ট ম্যাচে পরাজয়ের লজ্জা কুড়াতে হয়েছিল তাঁদের। অবশেষে সমস্ত অন্ধকার কাটিয়ে দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান। ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত ক্যারেবিয়ান সফরের দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র রেখেই দেশে ফিরছে এশিয়ার এই শক্তিশালী দল। স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে আট উইকেটের এক অনবদ্য জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।
ম্যাচের তৃতীয় দিনেই পাকিস্তানের জয়ের রাস্তা প্রশস্ত হয়ে গিয়েছিল। মাত্র ৬০ রানের লিড নিয়ে মঙ্গলবার ছয় উইকেট হারিয়ে ক্যারিবিয়ানরা তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করেছিল। এরপর চতুর্থ দিনে আর মাত্র ১৪ রান যোগ করতেই স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায়। ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় মাত্র ৭৫ রান। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনেই মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৭৭ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। দলের অধিনায়ক বাবর আজম জোড়া ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দেন। পাক অধিনায়ক ২৪ রানে অপরাজিত থেকে পুরো সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে ওপেনার আবদুল্লাহ শফিকের হাতে, যিনি দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪ রানে অপরাজিত থাকার পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ১৬০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তাঁর এই ৩২৩ বলের অনবদ্য সেঞ্চুরির সুবাদেই প্রথম ইনিংসে ৪৩৭ রানের জবাবে ৩৪৭ রান তুলে ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছিল পাকিস্তান। এছাড়া প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক বাবরের ব্যাট থেকেও এসেছিল মূল্যবান ৮৮ রান।
কুইন্স পার্ক ওভালের ঘূর্ণি পিচে দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং লাইনআপকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেন দুই পাকিস্তানি স্পিনার আলি উসমান ও সাজিদ খান। উভয়েই নিজেদের বোলিং জাদুতে চারটি করে উইকেট শিকার করেন। মাত্র ১১৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের জয় ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। যদিও দুই ওপেনার আজান আওয়েইস এবং ইমাম-উল-হক দ্রুত সাজঘরে ফিরেছিলেন, তবুও জয়ে কোনো বাধা আসেনি। ২৩.৩ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। উল্লেখ্য, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগোয় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ৯০ রানে জয় পেয়ে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে দ্বিতীয় টেস্টে জিতে ১-1 ব্যবধানে সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হলো পাকিস্তান।