“অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে ‘অশ্লীল’মন্তব্য!”-গ্রেফতার ডিএমকে নেতা উদয়ানিধি স্ট্যালিন

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে (Trisha Krishnan) নিয়ে এক বিতর্কিত ও ‘দ্ব্যর্থবোধক’ মন্তব্য করার জেরে আইনি বিপাকে পড়লেন তামিলনাড়ুর বিরোধী দলনেতা তথা ডিএমকে (DMK) নেতা উদয়ানিধি স্ট্যালিন (Udhayanidhi Stalin)। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় (C. Joseph Vijay)-এর দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (TVK)-এর অভিযোগ এবং জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)-এর হস্তক্ষেপে আজ চেন্নাইয়ের বাসভবন থেকে উদয়ানিধিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল?

সম্প্রতি থানজাভুরে কাবেরী নদীর জলবণ্টন বিবাদ ও মেকেদাতু প্রকল্প নিয়ে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছিল ডিএমকে। সেই সমাবেশে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে নিশানা করে বক্তব্য রাখছিলেন উদয়ানিধি স্ট্যালিন। অভিযোগ, সেই সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে কিছু সমর্থক হঠাৎই ‘তৃষা, তৃষা’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

বক্তব্য থামিয়ে সেই স্লোগানের জবাবে উদয়ানিধি একটি অশালীন ও দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। যা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় তোলে। যদিও উদয়ানিধির দাবি, তিনি কোনো ভুল কথা বলেননি এবং কারও নামও নেননি। একে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। গ্রেপ্তারের আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদনও করেছিলেন এই ডিএমকে নেতা।

টিভিকে এবং বিজেপির তীব্র আক্রমণ

এই ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর দল ‘টিভিকে’-র পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। দলের মহিলা উইং থানজাভুর পূর্ব থানায় উদয়ানিধির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। টিভিকে নেতারা অভিযোগ করেন যে, বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং মহিলাদের অবমাননা করতে নেমে এই ধরনের কুরুচিকর ও অশ্লীল ভাষার ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে, বিজেপিও উদয়ানিধির এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তামিলনাড়ু বিজেপি ইউনিটের প্রধান মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, “উদয়ানিধির এই দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য অত্যন্ত জঘন্য, অশ্লীল এবং লজ্জাজনক। একজন মায়ের সন্তান বা পরিবারের অভিভাবক হিসেবেও কেউ এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে না। তাঁকে অবিলম্বে কারাবাস করতে হবে।”

তৃষা কৃষ্ণানকে জড়িয়ে ডিএমকে নেতার এই মন্তব্য এবং পরবর্তী গ্রেফতারির জেরে বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।