ভুয়ো এসএমএসের ফাঁদে মিস হলো বন্দে ভারত! চোখের পলকে ঘটে গেল বড় বিপত্তি!

দূরপাল্লার ট্রেন যাত্রার আগে যাত্রীদের মোবাইল নম্বরে ট্রেনের সময়, আসন বা বার্থ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে নিয়মিত এসএমএস পাঠানো হয়। কিন্তু সেই সরকারি মেসেজেই যদি ভুল তথ্য থাকে, তবে যাত্রীদের কী পরিস্থিতি হতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ সম্প্রতি মিলল কেএসআর বেঙ্গালুরু-বেলাগাভি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে। ভুল মেসেজ পাঠানোর কারণে বহু যাত্রী শেষ পর্যন্ত ট্রেন ধরতে পারেননি এবং স্টেশনে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত শুক্রবার কেএসআর বেঙ্গালুরু-বেলাগাভি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের বেশ কয়েকজন যাত্রী একটি টেক্সট মেসেজ পান। ওই বার্তায় জানানো হয়েছিল যে ট্রেনটির নির্ধারিত ছাড়ার সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে পরিবর্তন করে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট করা হয়েছে। যেহেতু বার্তাটি রেলের তরফ থেকে এসেছে বলে মনে হয়েছিল, তাই যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই তা বিশ্বাস করেন এবং সেই নির্দেশ মেনেই বিকেল ৫টার দিকে স্টেশনে এসে পৌঁছন। কিন্তু স্টেশনে পা রেখেই তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। তাঁরা জানতে পারেন যে ট্রেনটি কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়াই তার নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ দুপুর ২টা ২০ মিনিটেই স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে।
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে বহু যাত্রী ট্রেন মিস করেন। ক্ষতিগ্রস্ত এক যাত্রী দিলীপ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি স্টেশনে পৌঁছানোর পর তাঁকে জানানো হয় ট্রেন অনেক আগেই ছেড়ে চলে গেছে এবং তাঁর মতো অন্তত ১৫ জন যাত্রী একই ধরনের ভুয়ো বার্তার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এই বিরাট ভুলের পর নড়েচড়ে বসেছে রেল কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ-পশ্চিম রেলওয়ে সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ভুল এসএমএসটি পাঠিয়েছিল সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস (CRIS)। রেলের দাবি, এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রভাব সীমিত সংখ্যক যাত্রীর ওপর পড়েছে এবং ট্রেনটি তার নির্ধারিত সময় মেনেই চলাচল করেছে। ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, যাত্রীদের এই হয়রানির কথা মাথায় রেখে যাঁরা ভুল বার্তার কারণে ট্রেন মিস করেছেন, তাঁদের সকলকে বিকল্প ট্রেনে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত যাত্রীদের টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য বা ভাড়া পুরোপুরি ফেরত দেওয়া হবে।