পাকিস্তানি এজেন্সির হুমকির পরই চরম উদ্বেগ! বাড়ানো হলো মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের নিরাপত্তা

রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সম্প্রতি একটি হুমকি ফোন পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মন্ত্রী উমেশ রাই। ওই বৈঠকে তাঁর সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরিস্থিতি গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে ডিজি (সিকিউরিটি)-কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, গত কিছুদিন আগে একটি বেনামি ফোন পেয়ে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মন্ত্রী। অভিযোগ ওঠে, ‘পাকিস্তানি এজেন্সি’র নাম করে তাঁর কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়েছিল। বর্ধমান থেকে জঙ্গি সন্দেহে হামিম মণ্ডলের গ্রেফতারির পরই মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের অনুমান, ওই ব্যক্তিই হয়তো ফোনে ভয় দেখিয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থা এসটিএফ (STF) সূত্রে জানা গেছে, ধৃত হামিম মণ্ডলের কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে টার্গেট করার বিস্ফোরক ও সংবেদনশীল তথ্য সামনে এসেছে। এরপরই নবান্ন থেকে সরাসরি হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটকে মন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উমেশ রাইয়ের বাসভবনের চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর যাতায়াতের সুবিধার্থে পোশাকি ও সাদা পোশাকে পুলিশ এসকর্টের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় দু’মাস আগে হাওড়ার গোলাঘাট এলাকায় হামিম মণ্ডলের সঙ্গে গোপনে দেখা করেছিল আদিত্য সিং নামের এক ব্যক্তি। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, উমেশ রায়ের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক রুটিন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই আদিত্যকেই।
এসটিএফ সূত্রে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্করপিও গাড়ি, তাঁর বাড়ি এবং এমনকি তাঁর ছেলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবি ও খবরাখবর আদিত্য সরাসরি শেহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের কাছে পাচার করেছিল। এই পুরো চক্রের সঙ্গে যুক্ত হামিম, আদিত্য, আবিদ ও রানা—প্রত্যেকটি অভিযুক্তের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং মোবাইল কথোপকথন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দাদের অনুমান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে অভিযুক্তরা নিজেদের মধ্যে গোপন যোগাযোগের জন্য সিকিউরড ‘Session’ অ্যাপ ব্যবহার করত। সেই অ্যাপের মাধ্যমে হওয়া সমস্ত চ্যাট এবং কথোপকথন উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এসটিএফ।
এদিকে, নিজের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং পুলিশি বেষ্টনী প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মন্ত্রী উমেশ রাই কিছুটা উদ্বেগের সুরেই বলেন, “আমি এতদিন সাধারণ মানুষের মতো বাইকে করে এলাকায় ঘুরে ঘুরে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। এখন হঠাৎ করে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় সেই পুরোনো জনসংযোগ কীভাবে আগের মতো বজায় রাখব, সেটাই এখন আমার কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”