‘এটাই কংগ্রেসের সংস্কৃতি!’ পা ধুতে দেখা গেল প্রবীণ নেতাকে, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মহা-রাজনীতিতে শোরগোল!

মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা নানা পাটোলেকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক এবং বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা একটি সোফায় বসে রয়েছেন এবং দুই ব্যক্তি সসম্মানে তাঁর পা ধুইয়ে দিয়ে তার ওপর ফুল ছড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আক্রমণ শাণিত করেছে। যদিও এই ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহারাষ্ট্রের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে তীব্র আক্রমণ শিয়ে বলেন যে, এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও সামন্ততান্ত্রিক কর্মকাণ্ডই কংগ্রেস নেতাদের মূল রাজনৈতিক সংস্কৃতির আসল প্রতিফলন। তাঁর দাবি, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজকর্ম কেবল অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা এবং নেতিবাচক প্রচারের জন্ম দেয়, যা জনমানসে দলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ করছে। শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে সামনে রেখে কংগ্রেসকে চরম নৈতিক পতনের অভিযোগে বিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ ও তীব্র আক্রমণ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে। নিজের সাফাইয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, যেদিনের ঘটনা নিয়ে এত তোলপাড় চলছে, সেদিন ছিল পবিত্র গুরু পূর্ণিমা। আর যাঁরা সচ্ছ্বরে তাঁর পা ধুয়ে দিয়েছেন, তাঁরা কেউ বহিরাগত বা অনুগামী নন, বরং তাঁরা তাঁর নিজের পরিবারেরই দুই কনিষ্ঠ সদস্য। তিনি তাদের এমন কোনো কাজ করার জন্য কোনো নির্দেশ দেননি কিংবা জোরও করেননি। তাঁর দাবি, পরিবারের ছোট সদস্যরা তাঁকে গুরু হিসেবে মান্য করে শ্রদ্ধা জানাতে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং পারিবারিক ঐতিহ্য মেনেই এই রীতি পালন করেছিলেন। এর সঙ্গে রাজনীতির বিন্দুমাত্র কোনো দূরদূরান্তের সম্পর্ক নেই।
শুধু তাই নয়, বিরোধীদের আক্রমণের তীব্র জবাব দিয়ে বিজেপি শিবিরকেও একহাত নেন এই কংগ্রেস নেতা। পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন যে, ভারতীয় জনতা পার্টির নেতাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে অন্যদের উপদেশ দেওয়ার ন্যূনতম কোনো নৈতিক অধিকার নেই। একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে, অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে বিজেপির উচিত নিজেদের দলের অভ্যন্তরীণ আচরণ ও কাজকর্ম নিয়ে আত্মসমালোচনা করা। সবমিলিয়ে, গুরু পূর্ণিমার একটি পারিবারিক ঘরোয়া অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। একদিকে বিজেপি এই ভিডিওকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের রাজনৈতিক মানসিকতাকে কাঠগড়ায় তুলেছে, অন্যদিকে কংগ্রেস একে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিসরের বিষয় বলে দাবি করে পালটা তোপ দেগেছে।