২০ বছরের লোন শোধ হয়ে যায় মাত্র ৫-৭ বছরে! কীভাবে সম্ভব হচ্ছে কোটি টাকার ফ্ল্যাট কেনা?

দেশের বড় বড় মেট্রো শহরগুলিতে একটি ৩ বিএইচকে (3BHK) ফ্ল্যাটের গড় দাম এখন অনায়াসেই ১.৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এত আকাশছোঁয়া দাম হওয়া সত্ত্বেও এই সমস্ত বিলাসবহুল ফ্ল্যাট জলের দরের মতো বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—এত দামী ফ্ল্যাট কেনার ক্ষমতা আসলে কার বা কাদের রয়েছে? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিট (Reddit)-এ এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এক ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে উঠে এসেছে চমকপ্রদ কিছু তথ্য।

কারা কিনছেন এই ১.৫ কোটির ফ্ল্যাট?

রেডিট ব্যবহারকারীদের একাংশের মতে, এই ধরনের দামী বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার প্রধান ক্রেতাই হলেন আইটি (IT) এবং টেক সেক্টরে কর্মরত স্বামী-স্ত্রী। যৌথ আয়ের সুবাদেই তাঁরা এই বড় পদক্ষেপ করার সাহস পান।

আলোচনায় উঠে আসা একটি বাস্তবসম্মত উদাহরণ অনুযায়ী, ধরুন আইটি সেক্টরে কর্মরত কোনো দম্পতির সম্মিলিত বা পৃথকভাবে বার্ষিক বেতন প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। বিয়ের পর তাঁরা নিজেদের সঞ্চয়ের পাশাপাশি বাবা-মায়ের কাছ থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্য পান। এরপর বাকি প্রায় ১.২ কোটি টাকার জন্য তাঁরা হোম লোন বা গৃহঋণ নেন। এই ধরনের পরিবারগুলিতে সাধারণত একজনের বেতনের টাকায় সংসারের সমস্ত দৈনন্দিন খরচ চলে যায়, আর অন্য জনের প্রায় পুরো বেতনটাই চলে যায় মাসিক ইএমআই (EMI)-এর পেছনে।

দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ফাঁদ নাকি সহজ অঙ্ক?

মাসে প্রায় ১ লাখ টাকার ইএমআই শুনে অনেকেরই চোখ কপালে উঠতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের বা রেডিট ব্যবহারকারীদের একাংশের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেতন বৃদ্ধি এবং কেরিয়ারে পদোন্নতি ঘটায় এই আর্থিক চাপ ধীরে ধীরে অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। যদিও ব্যাঙ্ক সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে হোম লোন দেয়, তবে বাস্তবে খুব কম মানুষই পুরো সময়টা ধরে ঋণ চালিয়ে যান।

  • তাড়াতাড়ি ঋণ শোধ: বেশিরভাগ ক্রেতাই তাঁদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বোনাস বা চাকরি বদলানোর সময় পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ ব্যবহার করে প্রি-পেমেন্ট (Pre-payment) করেন।

  • ৫ থেকে ৭ বছরে লোন খতম: এক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন যে, “বেশিরভাগ হোম লোনই ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে শোধ হয়ে যায়। ২০ বছর ধরে ইএমআই দেওয়ার ধারণাটা অনেকটাই মিথ।” বিশেষ করে বেঙ্গালুরুর মতো প্রযুক্তি-শহরগুলিতে অনেকেই নিয়মিত অতিরিক্ত টাকা জমা করে বা ইএমআই-এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে লোন মিটিয়ে দেন।

ভাড়ার চেয়ে ইএমআই কেন লাভজনক?

বেঙ্গালুরু বা মুম্বইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলির ভালো লোকালয়ে একটি ৩বিএইচকে ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়াই এখন ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি মাসে জলে টাকা ফেলার চেয়ে সেই টাকা সামান্য বাড়িয়ে বাড়ির ইএমআই দেওয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমত্তার কাজ। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়িভাড়া বা মূল্যবৃদ্ধি পেলেও হোম লোনের ইএমআই কিন্তু একই থাকে। ফলে শুরুর দিকে একটু চাপ হলেও কয়েক বছর পর তা অনেক সহজ হয়ে যায়।

বাবা-মায়ের আর্থিক ভূমিকা

এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাবা-মায়ের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বাবা-মায়ের পক্ষে পুরো ফ্ল্যাটের দাম দেওয়া সম্ভব হয় না, তবুও তাঁরা ডাউন পেমেন্ট (Down Payment), প্রপার্টির রেজিস্ট্রেশন কিংবা ঘরের ইন্টিরিয়র ডিজাইনের খরচ সামলে সন্তানদের প্রাথমিক আর্থিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেন। সব মিলিয়ে, সঠিক পরিকল্পনা, যৌথ আয় এবং পারিবারিক সহায়তার হাত ধরেই মেট্রো শহরের যুবসমাজ আজ ১.৫ কোটির ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে উঠছে।