সংসদ চত্বরে চরম নাটক! দলত্যাগীদের ‘গদ্দার’ দেগে প্ল্যাকার্ড পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাই-ভোল্টেজ বিক্ষোভ

দিল্লির সংসদ ভবন চত্বর ফের একবার রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো। বুধবার সকালে সংসদ চত্বরে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল জাতীয় রাজনীতি। ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি (NCP)-র দলবদলু ২০ জন সাংসদের ছবি গায়ে জড়িয়ে এবং প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে অভিনব কায়দায় বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ ও ঝাঁঝালো সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার জেরে মুহূর্তের মধ্যে সংসদ চত্বরে চরম হট্টগোল শুরু হয়ে যায় এবং উপস্থিত সমস্ত রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়ে নেয় এই আকস্মিক প্রতিবাদ।

এদিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এনসিপি শিবিরের সেই সমস্ত সাংসদদের সরাসরি নিশানা করেন, যাঁরা অতীতে দল পরিবর্তন করে অন্য শিবিরে ভিড়েছিলেন। দলবদলু ওই সংসদ সদস্যদের ছবি ও নাম সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিজের গায়ে জড়িয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সোচ্চার হন এবং তাঁদের তীব্র ভাষায় ‘গদ্দার’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, নীতিহীনভাবে দলবদল করে যাঁরা গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাঁদের আসল মুখ আজ দেশের সামনে উন্মুক্ত হওয়া দরকার। আর এই প্রতিবাদের মাধ্যমেই তিনি দলত্যাগী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে নিজের চরম ক্ষোভ উগরে দেন।

এদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হাই-ভোল্টেজ বিক্ষোভ যখন চরম পর্যায়ে, সেই মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন অভিনব প্রতিবাদ দেখে তিনি আর চুপ থাকতে পারেননি। তিনি কিছুটা টিপ্পনী বা কটাক্ষের সুরে কল্যাণবাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, যাঁরা একসময় তাঁদের দল থেকে অন্য দলে গিয়েছিলেন, আজ সেখান থেকেও ওঁরা আবার অন্যত্র চলে গিয়েছেন। প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্যের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে দলবদল এবং রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের রাজনীতি নিয়ে বিরোধী শিবিরের অন্দরেও নানা গুঞ্জন ও পারস্পরিক মতপার্থক্য রয়েছে।

তবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই কটাক্ষের মুখে একবিন্দুও দমে যাননি তৃণমূল সাংসদ। তিনি প্রিয়াঙ্কার মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় দাবি করেন যে, ওই দলবদলু সাংসদরা মূলত তাঁদের দেওয়া টিকিট এবং দলের রাজনৈতিক প্রভাবেই বিগত নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সুবিধাবাদী রাজনীতি করে তাঁরা দল পরিবর্তন করলেও সাধারণ মানুষ এবং প্রকৃত রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে তাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলেই কল্যাণের দাবি। সংসদ ভবন চত্বরে খোদ দুই হেভিওয়েট নেতার এই মুখোমুখি বাকবিতণ্ডা এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এই দলবদল ও সংসদীয় রাজনীতি কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।