‘এক দেশ এক নির্বাচন’-বিল পাস নিয়ে কেন্দ্রের পরিকল্পনা কী? কবে জমা পড়বে রিপোর্ট?

বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বা একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন সংক্রান্ত বিলটি চলতি সংসদ অধিবেশনে আনা হচ্ছে না। জানা গিয়েছে, এই ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ প্রস্তাব খতিয়ে দেখার দায়িত্বে থাকা সংসদের যৌথ কমিটি (JPC)-র রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে। বুধবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে একটি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কমিটিকে চলতি বছরের শীতকালীন অধিবেশনের শেষ পর্যন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নতুন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

লোকসভায় কী প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়?

বুধবার লোকসভায় JPC-র চেয়ারম্যান পি.পি. চৌধুরী একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেখানে তিনি জানান, কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে শীতকালীন অধিবেশনের শেষ সপ্তাহের প্রথম দিন পর্যন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। এরপর কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।

বর্তমানে ৪১ সদস্যের এই যৌথ সংসদীয় কমিটি সংবিধানের ১২৯তম সংশোধনী বিল, ২০২৪ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। এই বিলটির মূল লক্ষ্য হলো দেশে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বা যুগপৎ নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করা। ২০২৯ সালের মধ্যে লোকসভা, রাজ্য বিধানসভা এবং স্থানীয় পুরসভা ও পঞ্চায়েতের নির্বাচন একই সময়সূচির অধীনে আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে এই কমিটি। এর জন্য দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে তারা।

শীতকালীন অধিবেশন ও রাজনৈতিক আশঙ্কা

সাধারণত সংসদের শীতকালীন অধিবেশন নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হয়ে বড়দিনের ছুটির আগেই শেষ হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী, চলতি বছর অধিবেশন শেষ হওয়ার আগেই JPC-কে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে জমা দিতে হবে।

তবে এই সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। অধিকাংশ বিরোধী দলের প্রবল আশঙ্কা, শীতকালীন অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে যখন JPC তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করবে, ঠিক তখনই তাড়াহুড়ো করে ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ বিলটি সংসদে পাস করানোর চেষ্টা করতে পারে কেন্দ্র। তাছাড়া, এই বিল নিয়ে সংসদে পর্যাপ্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা।