সত্য বলার মাসুল! গুড়িয়া মামলার প্রধান সাক্ষী পুলিশকর্মী সাসপেন্ড হতেই হিমাচল প্রদেশে শোরগোল

২০১৭ সালে হিমাচল প্রদেশের শিমলা জেলার কোটখাইয়ের চাঞ্চল্যকর গুড়িয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী তথা পুলিশ কনস্টেবল দীনেশ শর্মাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কোটখাই থানায় অভিযুক্ত সুরজের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দীনেশের এই বরখাস্তকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পদায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি রাজভবনে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার শিমলায় এক সংবাদ সম্মেলনে দীনেশের ভাই সুরেশ শান্ডিল্য এবং তাঁর মা হিমাচল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন। পরিবারের দাবি, গুড়িয়া মামলায় আদালতে সত্য বলার অপরাধেই দীনেশকে গত বছর ধরে লাগাতার হয়রানি করা হচ্ছে। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে তাঁকে পাঁচবার বদলি করা হয়েছে এবং পারিবারিক সংকটের কথা জানিয়ে বদলি বন্ধের আবেদন করায় তাঁকে শেষমেশ সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
সুরেশ শান্ডিল্য জানান, ২০১৭ সালে কোটখাইয়ের কুখ্যাত গুড়িয়া মামলার অভিযুক্ত সুরজ পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়ার পর সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে এবং দীনেশকে প্রধান সাক্ষী করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দীনেশের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হলেও তিনি তা অস্বীকার করে কেবল সত্য বলার শপথ নেন। তাঁর নির্ভীক সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে বিশেষ সিবিআই আদালত তৎকালীন ইন্সপেক্টর জেনারেলসহ আটজন পুলিশ অফিসার ও কর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়।
পরিবারের অভিযোগ, সত্য বলার কারণে ২০১৭ সালে দীনেশকে একবার বরখাস্ত করা হয়েছিল। প্রায় ছয় মাস পর পুনর্বহাল হলেও সেই বিভাগীয় তদন্ত দীর্ঘ নয় বছর ধরে অমীমাংসিত রয়েছে, যার ফলে তাঁর পদোন্নতি আটকে রয়েছে। বর্তমানে তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসার জন্য বাবার উপস্থিতি প্রয়োজন হওয়ায় চৌপাল থেকে বদলি না করার অনুরোধ করা হলেও তা কানে তোলেনি পুলিশ প্রশাসন। উল্টো তাঁকে নানখারি ও পুলিশ লাইনে ঘনঘন বদলি করা হয় এবং এসপি ও ডিজিপির বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
চরম মানসিক চাপে দীনেশ আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন বলে মা সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান। পরিবারটি মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দীনেশের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় তারা হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।