অভিষেকের পিএ-র বাড়িতে পুলিশের হানা! ৩ দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ পুলিশের

খাস কলকাতায় ফের শিরোনামে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) সুমিত রায়। বকেয়া টাকা না মেটানোর একটি নতুন মামলায় এবার সুমিত রায়কে তলব করে নোটিস পাঠাল পুলিশ। বুধবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ নোটিস দিয়ে আসে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত সুমিত রায় এখনও পলাতক বলেই জানা যাচ্ছে।
বাড়িতে পুলিশি হানা ও নোটিস গ্রহণ
বুধবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার একটি পুলিশ দল টালিগঞ্জ সংলগ্ন মহাবীরতলা এলাকায় সুমিত রায়ের বাসভবনে পৌঁছয়। কিন্তু সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ফলস্বরূপ, পুলিশের দেওয়া নোটিসটি গ্রহণ করেন তাঁর মা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুমিতের মা সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, পুরো বিষয়টির যেন দ্রুত একটি নিষ্পত্তি হয়, সেটাই তাঁরা চান। তবে তাঁর ছেলে বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমে মুখ খুলতে চাননি।
ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে সুমিতের বিরুদ্ধে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর এলাকার একটি রিসর্টের মালিক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির জন্য ওই রিসর্টটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পরেও রিসর্ট কর্তৃপক্ষের পাওনা বকেয়া টাকা মেটানো হয়নি। এই আর্থিক প্রতারণা ও বকেয়া না মেটানোর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
একাধিক মামলায় আগেই জর্জরিত সুমিত
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একাধিক গুরুতর অভিযোগে নাম জড়িয়েছে সুমিত রায়ের। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে জমি জালিয়াতি, এমনকি তৃণমূলে ভোটের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তোলাবাজির মতো একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। এই সমস্ত অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই তিনি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে বা পলাতক রয়েছেন।
কালীঘাটে তল্লাশি: গত জুন মাসে অন্য একটি মামলার তদন্তে নেমে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের একটি দল সুমিতের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে সরাসরি অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল। যদিও সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
গ্রেফতারি পরোয়ানা: মেদিনীপুরের একটি আদালত সুমিতের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুকআউট সার্কুলার (Lookout Circular) জারি করেছে। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টও তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী দল বিজেপির দাবি, এই সমস্ত ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দুর্নীতির গভীতর চিত্রকেই স্পষ্ট করছে। যদিও এই বিষয়ে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।