ভাত খেলেই কি ওজন বাড়ে? মেদ ঝরাতে এবার ডায়েট থেকে চাল তুলবেন নাকি জানুন আসল সত্যি!

সাদা ভাত ছাড়া অনেকেরই দুপুরের খাওয়া ঠিক জমে ওঠে না। এক থালা গরম ভাত আর সঙ্গে একটু ডাল বা তরকারি হলে পেট ও মন—দুটোই বেশ শান্ত হয়। কিন্তু ইদানীং ওজন বা মেদ বেড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই থালা থেকে ভাত একেবারে ছেঁটে ফেলছেন। অনেকেরই ধারণা, বেশি সাদা ভাত নাকি খুব দ্রুত মোটা করে দেয়। কিন্তু এই ধারণার পেছনের সত্যতা ঠিক কতখানি, আর সত্যি কি ভাতের জন্যই মেদ বাড়ে নাকি ভুলটা অন্য কোথাও, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৈলাশ দীপক হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডায়েটিশিয়ান পায়েল দত্তের মতে, শুধু সাদা ভাত খেলেই কিন্তু কারও ওজন হু হু করে বেড়ে যায় না। মানুষ মূলত মোটা হয় তখনই, যখন শরীরে সারাদিনে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রবেশ করে। সহজ কথায়, আপনি মোট কতখানি খাচ্ছেন এবং তার বিপরীতে সারাদিনে কতটা শারীরিক পরিশ্রম বা কায়িক মেহনত করছেন, তার ওপরই শরীরের ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস নির্ভর করে। তাই সমস্ত দোষ কেবল ভাতের ঘাড়ে চাপানো সম্পূর্ণ ভুল।
ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেটের একটি দারুণ এবং শক্তিশালী উৎস, যা আমাদের শরীরে নিত্যদিনের শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তবে লাল চাল বা ব্রাউন রাইসের তুলনায় সাদা ভাতে ফাইবারের পরিমাণ কিছুটা কম থাকে, কারণ প্রক্রিয়াকরণের সময় চালের ওপরের অংশ বা তুষ বাদ পড়ে যায়। ফাইবার কম থাকার কারণে সাদা ভাত খাওয়ার পর পেট হয়তো অপেক্ষাকৃত দ্রুত খালি হয়ে যেতে পারে এবং পুনরায় খিদে পেতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনাকে আজই ডায়েট থেকে ভাত খাওয়া চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে।
বিজ্ঞান ও গবেষণার জগতের দিকে তাকালেও এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো একতরফা উত্তর মেলে না। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে অত্যন্ত বেশি পরিমাণে সাদা ভাত খেলে ওজন কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। আবার বিপরীতমুখী অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সঠিক ও মাপা পরিমাণে ভাত খেলে শরীরের ওজনের ওপর কোনো রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। সুতরাং, ভাত খাওয়া মানেই অনিবার্যভাবে মুটিয়ে যাওয়া—এই প্রচলিত ধারণার পেছনে কোনো জোরালো ও চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর। ভাতের সঙ্গে যদি আপনি পর্যাপ্ত ডাল, তাজা শাকসবজি, টক দই, ডিম, মাছ বা লিন প্রোটিন রাখেন, তবে পেট অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভরা থাকবে। শাকসবজি ও ডাল থেকে শরীর পর্যাপ্ত ফাইবার পায় এবং মাছ-ডিম থেকে আসে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, যা রক্তের শর্করা বা ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ভাত সবসময় বেশি তেলে ভেজে বা ফ্রাইড রাইস বানিয়ে না খেয়ে জলে ফুটিয়ে ঝরঝরে করে সেদ্ধ করে খাওয়া সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে ভাতের অতিরিক্ত মাড় বা স্টার্চ অনেকটাই বাদ চলে যায়।
তাই প্রতিদিনের খাবার থালায় ভাত দেখে আর ভয় পাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। খাদ্যতালিকায় ভাতের পরিমাণ সঠিক ও পরিমিত রাখুন, তার সঙ্গে পুষ্টিকর অন্যান্য খাবার যুক্ত করুন এবং সারাদিনে অন্তত কিছুটা হাঁটাচলা বা হালকা শারীরিক পরিশ্রম করুন। এক বাটি ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত খেয়েও আপনি সম্পূর্ণ ফিট, সুন্দর এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।