কম বয়সেই কি রক্তচাপে ভুগছেন? এই ৫টি অভ্যাসে ঝড়ের বেগে কমবে হাই প্রেশার!

আজকালকার ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় অল্পবয়সিদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ফাস্টফুড বা ভাজাভুজি খাওয়া, খাবারে অতিরিক্ত নুন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এই নীরব ঘাতক রোগ ডেকে আনার মূল কারণ। চিকিৎসকদের মতে, হাই প্রেশারের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা কিডনি, হৃদপিণ্ডসহ শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই সময় থাকতেই রক্তচাপকে স্বাভাবিক বা নিরাপদ সীমার মধ্যে রাখা অত্যন্ত জরুরি। শুধু নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার ওপর ভরসা না রেখে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও খাওয়াদাওয়ায় কিছু সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনলে রক্তচাপ খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

প্রথমত, প্রতিদিনের পাতে সুষম আহার বা ব্যালেন্স ডায়েট রাখা অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ গ্রামের বেশি নুন খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। খাবারে তাজা ফলমূল, সবুজ শাকসবজি, কম চর্বিযুক্ত মাংস এবং গোটা শস্যদানা অন্তর্ভুক্ত করুন। প্যাকেটজাত খাবার এবং অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত বা প্রসেসড খাবার থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

দ্বিতীয়ত, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডায়েটের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত ভীষণভাবে দরকারি। প্রতিদিন সকালে দ্রুত হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াকিং, সাইকেল চালানো এবং অ্যারোবিক্স বা কার্ডিওভাসকুলার এক্সারসাইজ করার অভ্যাস করুন। অন্তত সপ্তাহে দু’বার এই ধরনের শরীরচর্চা করা উচিত।

তৃতীয়ত, যাঁদের শরীরের ওজন অতিরিক্ত মাত্রায় বেশি, তাঁদের অবিলম্বে ওজন কমানোর ওপর জোর দিতে হবে। দেহের মেদ বা স্থূলতা হ্রাস পেলে রক্তচাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

চতুর্থত, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন সেবনের অভ্যাস অবিলম্বে ত্যাগ করা প্রয়োজন, কারণ এগুলি সরাসরি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর কুপ্রভাব ফেলে।

পঞ্চম এবং অন্যতম প্রধান বিষয় হলো মানসিক চাপ কমানো। স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা হাই প্রেশার বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অনুঘটক। মনকে শান্ত রাখতে প্রতিদিন গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ডিপ ব্রিদিং, মাইন্ডফুলনেস এবং রাতে পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি, যাদের প্রেশারের সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত সপ্তাহে অন্তত একবার নিজেদের ব্লাড প্রেশার মনিটর বা চেক করা উচিত।