ইংল্যান্ড দলের কোচ হওয়া নিয়ে বড় সত্যি ফাঁস! জাস্টিন ল্যাঙ্গারের মন্তব্যে তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে ইংল্যান্ড টেস্ট দলের পরবর্তী হেড কোচ কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পদত্যাগের পর থেকেই এই prestigium পদে কে বসবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। এই দৌড়ে প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছিল। তবে সম্প্রতি অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার নিজেকে এই প্রতিযোগিতা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নিয়েছেন। আর এবার এই পুরো গুঞ্জন নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন খোদ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB)-এর পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো যোগাযোগই করা হয়নি।

‘স্টিক টু ক্রিকেট’ (Stick to Cricket) পডকাস্টের একটি সাম্প্রতিক এপিসোডে জাস্টিন ল্যাঙ্গার এই বিষয়ে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলেছেন। তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয় যে ইসিবি তাঁর সঙ্গে কোনো কথা বলেছে কি না, তখন তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “না, আমি এ বিষয়ে কোনো খবর পাইনি। না, আমি কারোর কাছ থেকে কিছু শুনিনি। আপনারা এই সমস্ত জল্পনা-কল্পনা খবরের কাগজে পড়েন… এগুলো স্রেফ সংবাদমাধ্যমের তৈরি খবর এবং ভিত্তিহীন গুজব।” ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা ছিল যে, ইসিবির চিফ এক্সিকিউটিভ রিচার্ড গোল্ডের সঙ্গে ল্যাঙ্গারের পুরনো সম্পর্ক এবং সমারসেটে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে হয়তো তিনি এই পদের জন্য এগিয়ে থাকতে পারেন। কারণ অতীতে সমারসেটে গোল্ড যখন প্রধান নির্বাহী ছিলেন, তখন ল্যাঙ্গার দলটির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন। কিন্তু ল্যাঙ্গারের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে এটা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, রটনা থাকলেও বাস্তবে এই নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তাই হয়নি।

যদিও তিনি বর্তমানে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ নন, তবুও ল্যাঙ্গার অত্যন্ত সততার সঙ্গে স্বীকার করেছেন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন কিছু লোভনীয় সুযোগ থাকে যা এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, একজন পেশাদার কোচ হিসেবে সারা বিশ্বে এমন তিনটি প্রধান কোচিং পজিশন রয়েছে, যেগুলি পাওয়ার কথা পৃথিবীর যে কোনো শীর্ষ কোচই ভাববেন—একটি হলো অস্ট্রেলিয়ার হেড কোচ, দ্বিতীয়টি ভারতের হেড কোচ এবং তৃতীয়টি ইংল্যান্ডের হেড কোচ। তবে এর পরেই তিনি সংযত হয়ে জানান যে এই মুহূর্তে এগুলো নিছকই কল্পনার জগত ছাড়া আর কিছু নয়। পেশাদার কোচিং ক্যারিয়ারে মানুষ সবসময়ই বিভিন্ন সুযোগ এবং পরিস্থিতি বিচার করে দেখে, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এর চেয়ে বেশি কিছু ভাবার নেই।

উল্লেখ্য, ল্যাঙ্গারের পাশাপাশি এই prestigious পদের জন্য আরও বেশ কিছু বড় নাম নিয়ে জোরদার চর্চা চলছে। সম্ভাব্য প্রধান দাবিদারদের তালিকায় স্টিফেন ফ্লেমিং, রিচার্ড ডসন, জোনাথন ট্রট এবং টম মুডির নাম ওপরের দিকে রয়েছে। পাশাপাশি, আগামী ১৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের পরবর্তী টেস্ট সিরিজের জন্য মার্কাস ট্রেসকোথিককে অন্তর্বর্তীকালীন (Interim) কোচ হিসেবে নিয়োগ করার কথা জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ল্যাঙ্গার আরও মন্তব্য করেছেন যে, ম্যাককালামের প্রস্থান এবং নতুন কোচিং কাঠামোর অধীনে যিনি বা যারা দায়িত্ব নেবেন, তাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং সঠিক সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে। সব মিলিয়ে, ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচের চেয়ারটি কার দখলে যাবে, তা নিয়ে রহস্য ও কৌতূহল দুটোই এখন চরমে পৌঁছেছে।