ডিপিএসসির কম্পিউটার দুর্নীতি কাণ্ড! পুরনো ও অকেজো ল্যাপটপ বিতরণের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ বা ডিপিএসসি-কে ঘিরে তীব্র দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানালেন সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ আন্দোলনের অন্যতম বিশিষ্ট মুখ এবং সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। তাঁর এই বিস্ফোরক অভিযোগের জেরে রাজ্যজুড়ে শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে ভাস্কর ঘোষ দাবি করেছেন যে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ডিপিএসসির একটি নির্দিষ্ট নোটিফিকেশন অনুযায়ী গত ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ ডায়মন্ড হারবারের রবীন্দ্র ভবন থেকে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একাধিক স্কুলে কম্পিউটার বিতরণ করার একটি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তাঁর মূল অভিযোগ, সেই সময় ডিপিএসসি এবং শাসকদলের ঘনিষ্ঠতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সাংসদের তহবিল বা এমপি ল্যাডের টাকায় কেনা বহুমূল্য কম্পিউটারগুলি বিলি করার কথা বলা হলেও, স্কুলগুলিতে আদতে অত্যন্ত পুরনো, ভাঙাচোরা এবং ব্যবহৃত কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়।

ভাস্কর ঘোষ আরও অভিযোগের সুরে জানান যে, কম্পিউটার বিতরণের জন্য ডিপিএসসি আয়োজিত ওই সরকারি অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষক সংগঠনের নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতিকে বিশেষ সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। তাঁর দাবি, অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো যে, একটি সরকারি অনুষ্ঠানে জেলার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় সমস্ত আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। এই সমগ্র অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিও তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রকাশ্যে এনেছেন। তাঁর জোরালো দাবি, স্কুলগুলিতে বিতরণ করা ওই কম্পিউটারগুলি মূলত ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ভোটকুশলী সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া পুরোনো ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ছাড়া আর কিছুই নয়।

স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষক ও পরিচালকমণ্ডলী সূত্রে জানা গিয়েছে যে, কম্পিউটারগুলি হাতে পাওয়ার পরই দেখা যায় সেগুলির বড় অংশই সম্পূর্ণ অকেজো এবং নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে মেকানিক ডেকে বা সাধ্যমতো সারাই করার পরই কোনো রকমে সেগুলির সামান্য কিছু সচল করতে পেরেছে। সরকারি তহবিলের অপব্যবহার করে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সামনে রেখে এই ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি ও নিম্নমানের পুরোনো সামগ্রী বিতরণের পেছনে একটি বড়সড় দুর্নীতিচক্র কাজ করছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সম্পূর্ণ ঘটনার দ্রুত এবং নিরপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে এই র‌্যাকেটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরদার দাবি জানিয়েছেন ভাস্কর ঘোষ। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তিনি অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদনও জানিয়েছেন।