আমদানিতে কড়া টান, বিশ্ববাজারে বাজিমাত করতে আসছে কেন্দ্রের নতুন ‘টয় সেক্টর প্লেবুক’

দেশের উদীয়মান খেলনা শিল্পকে আরও বহুগুণ শক্তিশালী করতে এবং বিশ্ব বাজারের প্রথম সারিতে চিরতরে পৌঁছে দিতে এবার একটি সুদূরপ্রসারী ও বিশেষ মেগা পরিকল্পনা তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের মূল ও প্রধান লক্ষ্য হলো, আগামী ২০৩২ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী খেলনার মোট বাজারের অন্তত ৫ শতাংশ সরাসরি নিজেদের দখলে নিয়ে আসা। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা, দেশীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক মানের গুণগত উন্নতি সাধন করা এবং সামগ্রিক রপ্তানির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া—এই তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এই নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।

দেশের এই வளர்মান খেলনা শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হচ্ছে। পথ দেখাবে নতুন ‘প্লেবুক’। খেলনা শিল্পের সামগ্রিক উন্নতির জন্য প্রস্তুতকারক এবং রপ্তানিকারকদের পথপ্রদর্শক হিসেবে সরকার ‘টয় সেক্টর প্লেবুক’ নামে একটি অত্যন্ত উপযোগী ও নির্দেশিকা মূলক গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। এই প্লেবুকে সেরা উৎপাদন পদ্ধতি, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ ও সম্ভাবনা, মেধাস্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক গুণমানের কঠোর মাপকাঠি এবং আইনি ও বাণিজ্যিক নিয়মকানুন সম্পর্কে অত্যন্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই প্লেবুকটি দেশের ছোট ও বড় সমস্ত দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়ীদের দারুণভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

শিল্পক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার মাধ্যমে রপ্তানি এবং দেশীয় উৎপাদন আরও বহুগুণ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রের ‘স্কেল’ বা এসসিএএলই (SCALE) প্রকল্পের অধীনে এই সমস্ত কর্মকাণ্ড নিখুঁতভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে বিদেশ থেকে খেলনা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে, নিজস্ব প্রযুক্তিতে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে এবং পণ্যের গুণমানের আমূল সংস্কার করে ভারতীয় খেলনা শিল্প বিশ্ববাজারে এক দুর্দান্ত ও ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অভিমত অনুযায়ী, এই নতুন মেগা পরিকল্পনার সুবাদে দেশে আরও অধিক পরিমাণে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং ভারতকে বিশ্বমানের খেলনা তৈরির একটি প্রধান বিশ্বকেন্দ্রে পরিণত করা সম্পূর্ণরূপে সম্ভব হবে। সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছে যে, নতুন এই টাস্ক ফোর্স এবং শিল্পের উপযোগী আধুনিক প্লেবুক আসার ফলে ভারতীয় খেলনা নির্মাতারা আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের শক্ত অবস্থান আরও বহুলাংশে মজবুত করতে পারবেন।