সরকারি কর্মচারীদের জন্য মেগা ধামাকা! পুজোতেই কি মিলছে বাড়তি ডিএ এবং অক্টোবরের বেতন?

রাজ্যের হাজার হাজার সরকারি কর্মচারীর জন্য সামনে এল এক দুর্দান্ত সুখবর। আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসবের ঠিক আগেই মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীরা এই দুর্গাপূজার আগেই এক ধাক্কায় কুড়ি শতাংশ অতিরিক্ত মহার্ঘ ভাতা এবং তাঁদের সঙ্গে আগামী অক্টোবর মাসের বেতনও হাতে পেয়ে যাবেন। এর ফলে উৎসবের মরসুমে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আর্থিক স্বস্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সমতা বজায় রাখার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সমান হারে মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত হয়ে উঠবেন। তবে এই ব্যবধান পুরোপুরি ঘুচিয়ে সেন্ট্রাল লেভেলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। সম্প্রতি কলকাতার বিখ্যাত পুলিশ সদর দপ্তর ভবানী ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, তিনি ইতিমধ্যেই রাজ্যের অর্থমন্ত্রী এবং অর্থসচিবকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন যাতে দুর্গাপূজার আগেই অক্টোবর মাসের বেতন কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।

সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য সরকারি কর্মীরা প্রতি মাসের একেবারে শেষ কার্যদিবসে তাঁদের মাসিক বেতন পেয়ে থাকেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক এই নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কর্মচারীরা দুর্গাপূজার আনন্দের আগেই সম্পূর্ণ বেতন হাতে পেয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, এই বছর দুর্গাপূজা অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পড়েছে। রাজ্য সরকারের পূর্বঘোষিত বাজেট অনুযায়ী এই অতিরিক্ত কুড়ি শতাংশ মহার্ঘ ভাতা অক্টোবর মাস থেকেই কার্যকর করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যকার মহার্ঘ ভাতার তুলনামূলক পার্থক্য প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেছেন যে বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে প্রায় বেতালের বউনি হিসেবে বিয়াল্লিশ শতাংশের ব্যবধান রয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত সুরে বলেন যে, রাতারাতি জাদুবলে এই বিশাল ব্যবধান দূর করা সম্ভব নয়, এর জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে বর্তমান রাজ্য সরকার এই ব্যবধান কমাতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশ কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন যে অতীতে আইপিএস পদের নিচের সাধারণ পুলিশ কর্মকর্তারা সবসময় পর্যাপ্ত মনোযোগ ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অন্যান্য সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মতো এই পুলিশ কর্মীরাও গত বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁদের সেই দুর্দশা দূর করতে এবং আর্থিক মনোবল চাঙ্গা করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পুজোর প্রাক্কালে সরকারের এই যুগান্তকারী ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ ও আনন্দের জোয়ার দেখা দিয়েছে।