দীর্ঘদিনের পলাতক নকশাল নেতা অবশেষে জালে! ১ কোটি টাকার পুরস্কৃত মিসির বেসরা গ্রেফতার হতেই কি ভাঙল মাওবাদীদের মেরুদণ্ড?

ঝাড়খণ্ডের মাটিতে মাওবাদ-বিরোধী অভিযানে ঐতিহাসিক ও বিরাট সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা গোয়েন্দা সংস্থাগুলির চোখের মণি হয়ে থাকা এবং পলাতক থাকা নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র অত্যন্ত কুখ্যাত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরাকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। একাধিক রাজ্য জুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করা এই শীর্ষস্থানীয় নেতার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১ কোটি টাকারও বেশি। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলা থেকে তাঁর সঙ্গেই আরও পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় মাওবাদীকে যৌথ অভিযানে পাকড়াও করেছে পুলিশ।

গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত গোপন খবরের ভিত্তিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি রাজধানী ও সংলগ্ন ধানবাদ এলাকায় এক বিশেষ মেগা অপারেশন শুরু করে। এই কড়া তল্লাশি অভিযান চলাকালীনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়েন মিসির বেসরা ও তাঁর সহযোগীরা। দীর্ঘকাল ধরে দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার জন্য এক চরম মাথাব্যথার কারণ ও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই ষাটোর্ধ্ব মাওবাদী নেতা। ঝাড়খণ্ড ছাড়াও ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারসহ একাধিক রাজ্যে নকশাল কার্যকলাপ পরিচালনা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা এবং একাধিক গুরুতর নাশকতামূলক অপরাধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই গ্রেপ্তারী ভারতের সামগ্রিক নকশাল-বিরোধী অভিযানে অন্যতম বড় মোড় ও যুগান্তকারী সাফল্য।

পুলিশ সূত্রে বিস্তারিত জানা গিয়েছে, মূলত ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার মাদনাডিহর স্থায়ী বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ মাওবাদী নেতাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানবাদের বারওয়াড্ডা থানার অন্তর্গত মানিয়াডিহ এলাকা থেকে অবরুদ্ধ করে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের এক শীর্ষ ঊর্ধ্বতন আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, কেবল মিসির বেসরাই নন, এই বিশেষ সফল অভিযানে আরও দুই কুখ্যাত মাওবাদীকেও হাতেনাতে ধরা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের মাথার ওপর নির্দিষ্ট ১৫ লক্ষ টাকার নগদ পুরস্কার ঘোষিত ছিল। উল্লেখ্য, অপরাধের দুনিয়ায় ও মাওবাদী মহলে মিসির বেসরা মূলত ‘সাগর দা’ কিংবা ‘ভাস্কর দা’ নামেও সমধিক পরিচিত ছিল। ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ—এই তিন রাজ্যে ছক কষে সংঘটিত মাওবাদী নাশকতামূলক কার্যকলাপ এবং পুলিশের ওপর হামলার প্রায় ১৪১টি গুরুতর মামলায় প্রত্যক্ষভাবে নাম জড়িয়েছিল এই শীর্ষ নেতার। আপাতত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের বাকি সহযোগীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।