টাটা-মারুতির ঘুম কাড়তে আসছে হুন্ডাইয়ের সস্তা ইভি ও হাইব্রিড গাড়ি! এক চার্জেই ছুটবে ৪০০ কিমি?

দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা হুন্ডাই মোটরস বর্তমানে ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারের সেরা পাঁচটি ব্র্যান্ডের মধ্যে অত্যন্ত শক্তপোক্ত একটি স্থান দখল করে রয়েছে। ভারতের মাটিতে আই২০ (i20), ক্রেটা (Creta), এবং ভার্নার (Verna)-র মতো জনপ্রিয় ও আধুনিক সব গাড়ির মাধ্যমে সংস্থাটি নিজস্ব এক বিশাল ক্রেতা বাজার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে এই জনপ্রিয়তা বজায় রেখেই ক্রেটা ইলেকট্রিকের মতো উন্নত মডেল বিক্রি শুরু করেছে সংস্থাটি।

এবার বৈদ্যুতিক যানের পাশাপাশি হাইব্রিড গাড়ির ক্রমবর্ধমান বাজারেও নিজেদের রাজত্ব কায়েম করতে আসরে নামছে হুন্ডাই। এর ফলে ভারতের বাজারে মারুতি সুজুকি এবং টয়োটার মতো জায়ান্ট ব্র্যান্ডগুলিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। বর্তমান যুগে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়িই যে ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি, তা বলাই বাহুল্য। তাই সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে সস্তায় একাধিক আধুনিক মডেল লঞ্চ করার পরিকল্পনা নিয়েছে এই বহুজাতিক সংস্থা। যদিও টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রার মতো দেশীয় ব্র্যান্ডগুলিও ভবিষ্যতে হাইব্রিড গাড়ি আনার পরিকল্পনা করছে, তবুও তাদের অনেক আগেই ভারতীয় বাজারে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে হুন্ডাই। বর্তমানে দেশের হাইব্রিড গাড়ি বিক্রির বাজারে মারুতি সুজুকি সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

হুন্ডাইয়ের আসন্ন ইলেকট্রিক গাড়িগুলির মধ্যে ‘HE1i EV’ মডেলটি হতে চলেছে সবচেয়ে সস্তা এবং পকেট-ফ্রেন্ডলি। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ নাগাদ এই দুর্দান্ত গাড়িটি ভারতীয় বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করা হবে। বাজারে আসার পর এই গাড়িটি মূলত টাটা নেক্সন ইভি (Tata Nexon EV), কিয়া সাইরোস ইভি (Kia Syros EV) এবং টাটা পাঞ্চ ইভি (Tata Punch EV)-র মতো জনপ্রিয় গাড়িগুলির সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে। গাড়িটির আকর্ষণীয় বক্সি ডিজাইন ক্রেতাদের নজর কাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে এই গাড়িটি টানা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ অনায়াসেই পাড়ি দিতে পারবে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য এতে ৪২ kWh এবং ৪৯ kWh ক্ষমতার দুটি আলাদা ব্যাটারি প্যাকের বিকল্প রাখা হবে। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের আধুনিক ইভি নীতির আওতায় এই গাড়িটি ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করতে চলেছে।

অন্যদিকে, ভারতে হুন্ডাইয়ের প্রথম হাইব্রিড গাড়ি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ‘হুন্ডাই বেয়ন’ (Hyundai Bayon)। সাইজ ও আকৃতির দিক থেকে এই গাড়িটি হুন্ডাই ভেন্যু এবং জনপ্রিয় হুন্ডাই ক্রেটার ঠিক মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করবে। গাড়িটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ৪.২ মিটার। বাজারে আসার পর এই মডেলটি মূলত মারুতি সুজুকি ফ্রনডেক্স (Maruti Suzuki Fronx)-এর সঙ্গে সরাসরি লড়বে। গাড়িটিতে শক্তিশালী ১.০ লিটারের টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এটি উঁচুদরের জিএসটি (GST) করের আওতা থেকে বিশেষ ছাড় পাবে। এটি একটি আধুনিক হাইব্রিড গাড়ি হওয়া সত্ত্বেও এর প্রাথমিক প্রারম্ভিক বাজারদর মাত্র ১০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি থেকে শুরু হবে বলে প্রবল আশা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি, জনপ্রিয় এসইউভি হুন্ডাই ক্রেটা ইতিমধ্যেই প্রচলিত পেট্রোল এবং ইলেকট্রিক সংস্করণে বাজারে উপলব্ধ রয়েছে। তবে এবার সম্পূর্ণ নতুন ‘K3’ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে এই গাড়ির একটি উন্নত হাইব্রিড মডেল তৈরি করা হচ্ছে। শক্তিশালী ১.৫ লিটারের স্ট্রং হাইব্রিড ইঞ্জিন সমৃদ্ধ এই মডেলটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বাজারে আসতে পারে। এর আনুমানিক মূল্য ১১ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ২০ লক্ষ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, হুন্ডাইয়ের প্রিমিয়াম ও দীর্ঘাকৃতি গাড়ি অ্যালকাজারেরও (Alcazar) একটি দুর্দান্ত হাইব্রিড ভ্যারিয়েন্ট বাজারে আনার তোড়জোড় চলছে। শক্তিশালী ১.৫ লিটারের হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন সহ এই বিলাসবহুল গাড়িটিকে ২০২৭ সালের শেষের দিকে কিংবা ২০২৮ সালের শুরুর দিকে ভারতীয় রাজপথে ছুটতে দেখা যাবে।