“সাংবাদিক পেটানো জামাতি ও মৌলবাদীদের রেয়াত করা হবে না!” কারগিল দিবসে কড়া বার্তা বিরোধী দলনেতার

আজ পবিত্র কারগিল বিজয় দিবস। পরম শ্রদ্ধায় দেশজুড়ে বীর শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছে। এই বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে অবস্থিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া বীরদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “যাঁরা কারগিলের রণক্ষেত্রে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের সেই অমর আত্মত্যাগ আজ গোটা দেশ অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছে।” কারগিল দিবসের এই পবিত্র মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু অধিকারী সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে চলা সাংবাদিক নিগ্রহ, প্রশ্ন ফাঁসের মতো সংবেদনশীল ইস্যু, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বিভিন্ন আন্দোলন নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও আক্রমণাত্মক ভাষায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

কলকাতায় সাম্প্রতিক নিট (NEET) আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় সাংবাদিক মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, পুলিশ ইতিমধ্যে এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট করে বলেন, “যাঁরা সাংবাদিকদের গায়ে হাত তুলেছে এবং প্রকাশ্যে খুনের চেষ্টা করেছে, তাঁদের রেয়াত করা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কুখ্যাত গুণ্ডাদমন আইনে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যে যেকোনো মূল্যে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করা হবে।” তিনি আরও জোরালোভাবে বলেন যে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রাখার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই প্রকাশ্য রাজপথে গুণ্ডামি বরদাস্ত করা হবে না।

বিরোধী দলনেতা আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানান যে, এই প্রথম রাজ্যের সাংবাদিকরা নিজেদের ওপর হওয়া হামলার বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে সোচ্চার হয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটেছেন। অতীতে বারবার গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে আক্রান্ত হলেও বহু সময় নানা প্রতিকূলতার মাঝে চুপ করে থাকতে বাধ্য হতেন। আন্দোলনকারীদের একাংশের কঠোর সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “এঁরা আদতে কোনো সাধারণ ছাত্র নন। এঁরা হলেন জামাতি ও মৌলবাদী শক্তির উগ্র প্রতিনিধি।” সাম্প্রতিক একটি বামেদের মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “ওটা কোনো খাঁটি বামেদের মিছিল ছিল না। ওটা ছিল একান্তই একটি সেলফ ডিক্লেয়ার্ড কক্রোচ জনতা পার্টির মিছিল। এই ধরনের আন্দোলন গভীর কোনো বিদেশি শক্তির দ্বারা মদতপুষ্ট হওয়াও অসম্ভব নয়।”

দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশ্ন ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রশংসনীয় পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্নীতি ও অপরাধের মতো বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতিতে পুরোপুরি বিশ্বাসী। কেন্দ্রীয় সরকার এর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া আইন বা বিল আনতে চলেছে। শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করাই নয়, বরং সেই আইনগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়িত করার জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক বিচারব্যবস্থার কথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। দেশের সাধারণ ছাত্র ও আন্দোলনকারীরা সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে পারেন।”

আজকের কারগিল দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বিশেষভাবে স্মরণ করেন ঐতিহাসিক নন্দীগ্রামের মাটিতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার শহীদদেরও। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন, “নন্দীগ্রামের মাটিতেও বহু মানুষ আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। আজকের দিনটি তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানোর দিন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য যাঁরা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তাঁদের এই মহান ত্যাগ আগামী প্রজন্মকে সবসময় পথ দেখাবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।” পরিশেষে তিনি পুনরায় দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং রাজ্যের স্বার্থে যেকোনো মূল্যে কঠোর হাতে আইনের শাসন বজায় রেখে সমাজবিরোধীদের দমন করা হবে।

🔹 Hindi Version: