বিশ বছর পর তেলুগু পর্দায় কামব্যাক! প্রভাসের ‘স্পিরিট’ ছবিতে কোন নতুন চমক নিয়ে আসছেন ক্যাটরিনা কইফ?

বলিউড ও দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে এই মুহূর্তে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অভিনেতা প্রভাসের আসন্ন বিগ বাজেট প্যান-ইন্ডিয়া অ্যাকশন থ্রিলার ছবি ‘স্পিরিট’। ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘অ্যানিম্যাল’-এর অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর তরুণ পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার এই বহুমুখী প্রজেক্টটি নিয়ে সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সিনেপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। তবে অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, ছবিটির অফিশিয়াল শুটিং ফ্লোরে গড়ার আগেই কাস্টিং ও নানা চাঞ্চল্যকর খবর ঘিরে বলিপাড়া রীতিমতো উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, প্রথম সারির অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের প্রস্থান এবং তাঁর ঠিক পরেই লাস্যময়ী অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কইফের এন্ট্রি ঘিরে তৈরি হওয়া টাটকা গুঞ্জন নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর চাউর হয়েছে যে, দীপিকা পাড়ুকোন অত্যন্ত আকস্মিকভাবে এই মেগা প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নড়েচড়ে বসেছেন নির্মাতারা। তবে শোনা যাচ্ছে, ক্যাটরিনা কইফকে এই ছবিতে কোনো মূল বা প্রধান নায়িকা হিসেবে ভাবা হচ্ছে না; বরং তাঁকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও অর্থাৎ অত্যন্ত প্রভাবশালী স্পেশাল চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ঘনিষ্ঠ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, ছবির স্ক্রিনটাইমে ক্যাটরিনার উপস্থিতি খুব একটা দীর্ঘ বা বড় না হলেও, তাঁর সেই বিশেষ চরিত্রটি সিনেমার ঠিক এমন এক অত্যন্ত আকর্ষণীয় টার্নিং পয়েন্টে আবির্ভূত হবে, যা পুরো ছবির চিত্রনাট্য এবং প্লটকে একেবারে আমূল বদলে দিতে পারে। এই গুঞ্জন যদি শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়, তবে সুদীর্ঘ দুই দশক দীর্ঘ বিরতির পর ফের একবার তেলুগু বড় পর্দায় দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে ক্যাটরিনার। স্মরণ করা যেতে পারে, এর সুদূর অতীতে ২০০৪ সালে জনপ্রিয় তেলুগু তারকা ভেঙ্কটেশের বিপরীতে ‘মল্লীশ্বরী’ এবং অভিনেতা এ নন্দমুড়ি বালকৃষ্ণের সঙ্গে ‘অল্লী পিডুগু’ নামের দুটি ছবিতে অভিনয় করে ক্যাটরিনা দক্ষিণী দর্শকের নজর কেড়েছিলেন। যদিও এই বিষয়ে ছবিটির প্রযোজনা সংস্থা, নির্মাতা কিংবা খোদ ক্যাটরিনার অফিশিয়াল টিমের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর বা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বলিপাড়ার এক্সক্লুসিভ অন্দরে এই খবর রীতিমতো দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ঝড় তুলেছে।

অন্যদিকে, ইন্ডাস্ট্রির বিশ্বস্ত সূত্রে প্রকাশ, পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার অত্যন্ত কঠোর কাজের ধরন এবং তাঁর নির্দিষ্ট কিছু শর্তের সঙ্গে কোনোভাবেই বনিবনা হচ্ছিল না দীপিকা পাড়ুকোনের। গুঞ্জন রটেছিল যে, দীপিকা নাকি তাঁর পারিশ্রমিক বাবদ প্রায় আকাশছোঁয়া ৪০ কোটি টাকার পাশাপাশি ছবির মোট প্রফিট শেয়ার বা লভ্যাংশের অংশীদারিত্ব দাবি করেছিলেন। একই সঙ্গে, প্রতিদিন মাত্র ৬ ঘণ্টা শুটিং ফ্লোরে কাজ করার কঠোর সময়সীমা এবং তেলুগু ভাষায় নিজের মুখের ডায়লগ নিজে ডাবিং না করার শর্ত জুড়ে দেওয়ায় নাকি পরিচালক বেশ বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এরপরই দুপক্ষের সৃজনশীল মতের অমিল হওয়ায় দীপিকার সঙ্গে ছবিটির অফিশিয়াল সম্পর্ক চিরতরে চুকে যায় এবং নির্মাতারা অতি দ্রুত নতুন ও বিকল্প কাস্টিংয়ের পথ বেছে নেন। দীপিকার সেই শূন্য স্থানে অত্যন্ত জনপ্রিয় বলি অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরিকে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে ছবিটির আকর্ষণ এখন আকাশচুম্বী।