২৩ বছর পর তিলোত্তমায় মণি রত্নমের ম্যাজিক! মধ্যরাতের হাওড়া ব্রিজে শ্যুটিংয়ে ধরা দিলেন বিজয় সেতুপতি ও সাই পল্লবী!

২৩ দীর্ঘ বছরের দীর্ঘ ব্যবধান পেরিয়ে ফের একবার কলকাতার ঐতিহাসিক রাজপথে এসে হাজির হলেন দক্ষিণী সিনেমার কিংবদন্তি তথা মাস্টার ডিরেক্টর মণি রত্নম। এর আগে স্মরণীয় ছবি ‘যুবা’-র সুবাদে তিলোত্তমার বুকে ক্যামেরা চালিয়েছিলেন এই প্রখ্যাত পরিচালক। আর এবার তাঁর আগামী বহু প্রতীক্ষিত নতুন ছবির শুটিংকে কেন্দ্র করে রবিবার মধ্যরাতে রীতিমতো সরগরম হয়ে উঠল কলকাতা। শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু করে একেবারে রবিবার ভোর প্রায় চারটে পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন আইকনিক জায়গায় চলেছে এই হাই-প্রোফাইল শুটিং। মধ্যরাতের সেই গভীর নিস্তব্ধতা খানখান করে হাওড়া ব্রিজের বুকে দীর্ঘ সময় ধরে চলল শুটিংয়ের কাজ। আর সেই গোপন শুটিংয়ের সেট থেকেই প্রকাশ্যে এসে গেল দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় সেতুপতি এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবীর প্রথম ঝলক, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
চলতি মাসের গত ২২ জুলাই অতি গোপনীয়তার সঙ্গে কলকাতা শহরে পা রেখেছেন বিজয় সেতুপতি এবং সাই পল্লবী। মণি রত্নমের এই মেগা প্রজেক্টের শুটিংয়ের জন্যই তাঁদের এই তিলোত্তমা আগমন। এদিন শ্যুটিং ফ্লোরে সাই পল্লবীকে এক মোহময়ী লাল পোশাকে ক্যামেরার সামনে ধরা দিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, অভিনেতা বিজয় সেতুপতির পরনে ছিল একদম সাদামাটা কালো টি-শার্ট এবং নীল জিন্স। অত্যন্ত ক্যাজুয়াল ও স্বচ্ছন্দ পোশাকে কখনো তাঁদের হাওড়ার বিশ্বখ্যাত ব্রিজের ওপর পাশাপাশি হাঁটতে দেখা গেছে, আবার কখনো গম্ভীর মুখে কোনো বিশেষ দৃশ্যের রিহার্সাল করতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, শুটিংয়ের ফাঁকে খোদ পরিচালক মণি রত্নম নিজেই সেটে উপস্থিত থেকে শিল্পীদের পুরো দৃশ্য বুঝিয়ে দিতে ব্যস্ত ছিলেন। তবে অত্যন্ত কড়া গোপনীয়তা বজায় রাখার কারণে এখনও পর্যন্ত এই নতুন ছবির নাম বা এর প্লট নিয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, পরিচালক মণি রত্নম শুটিংয়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করার জন্য এর আগে আজ থেকে প্রায় মাসখানেক আগেই কলকাতায় এসে সমস্ত লোকেশন রেইকি করে গিয়েছিলেন। এবার প্রায় ১৫ দিনের দীর্ঘ শিডিউলে তিলোত্তমায় চলবে এই ছবির কাজ। শুধু হাওড়া ব্রিজই নয়, কলকাতার একাধিক ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক জায়গাকে ক্যামেরাবন্দী করা হবে এই প্রোজেক্টের মাধ্যমে। টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও, কলকাতার প্রাণকেন্দ্র পার্ক স্ট্রিট, ঐতিহাসিক বেলগাছিয়া রাজবাড়ি এবং সুপ্রাচীন কুমোরটুলির অলিগলিতেও ক্যামেরার লেন্স ঘুরবে। এমনকি মূল শুটিং ফ্লোরে নামার আগে কলকাতার বেলগাছিয়া এলাকায় একটানা বেশ কিছুদিন অভিনেতাদের নিয়ে নিবিড় মহড়াও চলেছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই প্যান-ইন্ডিয়া ছবিতে শুধুমাত্র দক্ষিণী তারকারাই নন, বরং বাংলার টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখকেও অভিনয় করতে দেখা যাবে। এই তালিকায় ইতিমধ্যেই দুর্বার শর্মা এবং অরিজিতা মুখোপাধ্যায়ের মতো দক্ষ অভিনেতাদের নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে। সব মিলিয়ে, মণি রত্নমের এই মেগা প্রজেক্ট যে বাংলা বিনোদন দুনিয়ায় এক নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।