শমীকের হুঁশিয়ারি হাওয়ায় ভাসল! খোদ দিলীপকে পুজোর বড় দায়িত্ব দিয়ে কোন বার্তা দিল নিউ টাউন?

দলীয় সভাপতির স্পষ্ট নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই কি পুজোর কমিটিতে পদ নিলেন হেভিওয়েট নেতা? এই প্রশ্নই এখন জোরালোভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। কিছুদিন আগেই রাজ্য BJP সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছিলেন, রাস্তায় বেরিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি বা বিধায়করা যেন পুজোর দায়িত্ব বা পদ নিজেদের কাঁধে তুলে না নেন। কিন্তু তাঁর সেই বার্তার কালি শুকোতে না শুকোতেই একেবারে উলটো চিত্র ধরা পড়ল খাস নিউ টাউনে। পঞ্চমের পা রাখা ‘নিউ টাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি’-র নতুন পোস্টারে খড়গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে ‘চিফ অ্যাডভাইজর’ বা প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

শমীকের বার্তার পেছনের প্রেক্ষাপট

তৃণমূল আমলে কলকাতা শহরের বেশিরভাগ দুর্গাপুজোই কোনও না কোনও নেতা, মন্ত্রী বা বিধায়কের ব্যক্তিগত পুজো হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। অতীতে অরূপ বিশ্বাসের ‘সুরুচি সঙ্ঘ’ হোক কিংবা দেবাশিস কুমারদের ক্লাব—পুজো কমিটিতে রাজনৈতিক আধিপত্য ও নানা দুর্নীতির অভিযোগ বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। এই সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকতেই শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি কড়া অবস্থান নেন। তিনি স্পষ্ট জানান, পুজোর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত হওয়া এক জিনিস, কিন্তু কমিটিতে পদ আঁকড়ে থাকা অন্য ব্যাপার। এমনকি, নিজে কলেজ পুজোর সভাপতি হতেও অস্বীকার করেছিলেন তিনি। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই দিলীপ ঘোষের নিউ টাউনের পুজোয় পদ পাওয়ার বিষয়টি দলের অভ্যন্তরেই বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

কী সাফাই দিল পুজো কমিটি?

দলের রাজ্য সভাপতির কড়া বার্তার পরেও কেন দিলীপ ঘোষকে এই পদে রাখা হলো? এই প্রশ্ন নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই মুখ খুলেছে ‘নিউ টাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি’। কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পীযূষ রঞ্জন  সাক্ষাৎকারে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “উপদেষ্টা কখনও সভাপতি বা সম্পাদক হন না। নিউ টাউনের আমজনতাই এই পদগুলিতে রয়েছেন। যেহেতু উনি পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী এবং নিউ টাউন এখনও মিউনিসিপ্যালিটি হয়ে ওঠেনি, তাই ওঁকে উপদেষ্টা রাখতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”

পাশাপাশি তিনি আরও যোগ করেন, “দিলীপবাবু নিজেই আমাদের উপদেষ্টা হিসেবে থাকতে চেয়েছেন। ইকো পার্কে উনি নিয়মিত আসেন, আমাদের রক্তদান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সস্ত্রীক অংশ নেন। উনি আমাদের পথ দেখাবেন যাতে পুজোকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায়।” পুজো কমিটিতে কোনও রাজনৈতিক রং লাগবে না বলেও স্পষ্ট দাবি করেছেন তিনি।

আগামী অগাস্টের শুরুতেই খুঁটিপুজোর মধ্যে দিয়ে এই পুজোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হতে চলেছে। গত বছর ‘ফুলের সাজে, ফুলের মাঝে, মা দুর্গা মোদের মাঝে’ থিম তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। এখন দেখার, দিলীপ ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে চলা এই পুজো পালাবদলের বাজারে কতটা ক্রাউড পুলার হতে পারে এবং রাজ্য রাজনীতিতে এর জল কতদূর গড়ায়।