দিল্লির বুকেও এবার আলাদা পার্টি অফিস! কালীঘাটকে বড় ধাক্কা দিয়ে রাজধানীর দখল নিতে চলেছে ঋতব্রত শিবির

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বাংলার শাসকদলের অন্দরের ফাটল এখন জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছে। ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস কারা, তা নিয়ে কালীঘাট বনাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের লড়াই এবার রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত গড়াল। নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের নাম এবং ‘ঘাসফুল’ প্রতীকের দখল নিতে আইনি লড়াই শুরু করার পাশাপাশি, এবার দিল্লিতে পাকাপাকিভাবে একটি স্থায়ী পার্টি অফিস খুলতে চলেছে ঋতব্রত শিবির। সব ঠিকঠাক থাকলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের আগেই কনট প্লেসে এই নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন হতে পারে।
অন্দরের ফাটল থেকে রাজধানীতে আধিপত্যের লড়াই
বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে প্রথম বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দলীয় বিধায়কদের একটি বড় অংশ আলাদা হয়ে যান এবং এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে আসেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে তিনি বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
প্রথম থেকেই নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করে আসা এই শিবির ইতিমধ্যেই একটি সমান্তরাল জাতীয় কর্মসমিতিও গঠন করেছে। যেখানে চেয়ারপার্সন পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে অরূপ রায়কে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিল্লির স্থায়ী ঠিকানা ও সাংগঠনিক শূন্যস্থান পূরণ
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বভারতীয় তকমা থাকলেও দিল্লিতে তৃণমূলের নিজস্ব বা স্থায়ী কোনো সুনির্দিষ্ট কার্যালয় ছিল না। অতীতে দলীয় সাংসদদের সরকারি বাংলো থেকেই দিল্লির কাজকর্ম পরিচালিত হত। তবে সেই অস্থায়ী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে এবার রাজধানীতে একটি স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে নামছে ঋতব্রত শিবির। কনট প্লেসে কার্যালয়ের জন্য ইতিমধ্যেই জায়গা চূড়ান্ত হয়েছে এবং অন্দরসজ্জার কাজও দ্রুত গতিতে চলছে।
এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অরূপ রায় জানান, “দিল্লিতে আমাদের একটি পার্টি অফিস নেওয়া হয়েছে। তবে কবে সেটির উদ্বোধন হবে, তার দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আমরা দ্রুত দিন ঠিক করে সর্বসমক্ষে ঘোষণা করব।”
কালীঘাটের কড়া প্রতিক্রিয়া
ঋতব্রত শিবিরের এই সমান্তরাল সংগঠন গড়া এবং দিল্লিতে কার্যালয় তৈরির তোড়জোড়কে প্রথম থেকেই গুরুত্ব দিতে নারাজ কালীঘাটপন্থী নেতৃত্ব। এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপির স্তাবক হয়ে অনেক কিছু করা যায়। ঋতব্রত আসলে শুভেন্দুর আর একটি মুখ। ওরা তৃণমূল কংগ্রেস নয়।” সব মিলিয়ে, দলের নাম, প্রতীক এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই এখন তুঙ্গে উঠেছে।