রাজ্যে আসছে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ ঝড়! স্বাধীনতা দিবসের আগে নবান্নের ১৩ দফা নির্দেশিকায় শোরগোল

আসন্ন স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে পুরো রাজ্যজুড়ে এক অভূতপূর্ব ও ব্যাপক কর্মসূচি পালনের ঐতিহাসিক ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য এবং জাতীয় পতাকার মর্যাদা প্রচারের মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী ৯ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে মহা সমারোহে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান পালিত হবে। এই বিশাল কর্মসূচি সফলভাবে রূপায়িত করতে নবান্নের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলায় কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মোট ১৩ দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরের জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দও ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের জারি করা এই ১৩ দফা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, ৯ থেকে ১৭ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত পুরো রাজ্যের প্রতিটি কোণায় এই অভিযান চলবে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর, জেলাশাসকের কার্যালয়, কলকাতা পুরসভা, পঞ্চায়েত, স্থানীয় পৌরসভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠন, এনজিও এবং সাধারণ মানুষকে এই দেশাত্মবোধক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য, জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং পৌরসভা স্তরে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিশাল তিরঙ্গা র্যালি ও পদযাত্রা আয়োজন করতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এই সমস্ত পদযাত্রা যেন সম্পূর্ণভাবে ‘ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া, ২০২৩’ (Flag Code of India, 2023) মেনে পরিচালিত হয়।
পাশাপাশি, তরুণ সমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এনএসএস (NSS), এনসিসি (NCC), এনওয়াইকেএস (NYKS), স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনকে নিয়ে আকর্ষণীয় তিরঙ্গা সাইকেল র্যালি ও বাইক র্যালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে তিরঙ্গা থিমে সুসজ্জিত করা, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিখ্যাত উদ্ধৃতি ও ‘বন্দে মাতরম’-এর পঙ্ক্তি প্রদর্শন করার মাধ্যমে একটি খাঁটি দেশাত্মবোধক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সরকারি দফতর, ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী ভবন, বাস টার্মিনাস, ফেরিঘাট এবং ব্যস্ত বাজার এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানগুলিতে চোখ ধাঁধানো তিরঙ্গা আলোকসজ্জা এবং সুদৃশ্য তিরঙ্গা রঙ্গোলি তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জনসাধারণের মধ্যে দেশপ্রেমের জোয়ার আনতে সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনসমাগমস্থলে নিয়মিত ‘বন্দে মাতরম’ ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন সহ বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। প্রতিটি বাড়ি, দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকার গৌরবময় ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ, সেমিনার, বক্তৃতা এবং দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় সংহতির বার্তা আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতে হবে। ব্যানার, পোস্টার, ডিজিটাল প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়ার ডিপি (DP) পরিবর্তন এবং অফিশিয়াল ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ পোর্টালে সেলফি আপলোড করে সর্বাধিক জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের যুক্ত করে জনবহুল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার নির্দেশ রয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলায় ১.৫ লক্ষ এবং কালিম্পং জেলায় ২০ হাজার জাতীয় পতাকা বিনামূল্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকার আর্থিক বরাদ্দেরও ঘোষণা করেছে। জানা গিয়েছে, প্রতিটি জেলার জন্য ১ লক্ষ টাকা, মহকুমা স্তরে ৫০ হাজার টাকা, ব্লক স্তরে ২০ হাজার টাকা, প্রতিটি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের জন্য ১ লক্ষ টাকা এবং প্রতিটি পৌরসভার জন্য ২০ হাজার টাকা করে বিশেষ আর্থিক অনুদান বরাদ্দ করেছে নবান্ন।