বিশ্বমঞ্চে লজ্জার নজির! ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে নির্বাসনের মুখে রোয়িং সোনাজয়ী লক্ষ্য

ক্রীড়াজগতে একের পর এক অস্বস্তিকর খবর সামনে আসছে। ডোপিংয়ের গ্যাঁড়াকলে পড়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের অ্যাথলিটদের শৃঙ্খলা। একদিকে রোয়িং বিশ্বকাপে (Rowing World Cup) ভারতের প্রথম সোনা জয়ের গৌরব যেমন হুমকির মুখে, তেমনই গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের ঠিক আগে ডোপ ও নিয়মরক্ষার ভুলে দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন দুই শীর্ষস্থানীয় জুডোকা।

১. রোয়িং বিশ্বকাপে ভারতের ঐতিহাসিক সোনা কেন বাতিল হতে চলেছে?

গত জুন মাসে সুইৎজ়ারল্যান্ডের লুসার্নে লাইটওয়েট ডাবলস স্কালসে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন ভারতের লক্ষ্যউজ্জ্বল কুমার সিং। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই বড় ধাক্কা লাগে। জানা যায়, বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের আগেই গত ২৫ মে পুনের আর্মি রোয়িং নোডে সংগৃহীত লক্ষ্যের নমুনা পরীক্ষায় নিষিদ্ধ অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ‘স্ট্যানোজ়োলোল’ (Stanozolol) ধরা পড়ে।

জাতীয় অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (NADA) তাঁকে ইতিমধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। ওয়াডা (WADA)-র নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার আগের কোনো নমুনায় ডোপ পজিটিভ এলে, সেই তারিখের পর থেকে অর্জিত সমস্ত পদক ও ফলাফল বাতিল হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, ভারতের ঝুলিতে আসা প্রথম রোয়িং বিশ্বকাপ জয়ের সেই ঐতিহাসিক সোনা এখন বাতিলের মুখে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ চার বছরের নির্বাসনের মুখে পড়তে পারেন এই রোয়ার।

২. কমনওয়েলথ গেমসের দল থেকে বাদ দুই জুডোকা

রোয়িংয়ের পাশাপাশি বড় ধাক্কা এসেছে জুডো শিবিরেও। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের দল থেকে একে একে বাদ পড়েছেন দুই পদকপ্রত্যাশী জুডোকা— অরুণ কুমারতুলিকা মান

  • অরুণ কুমার (-৭৩ কেজি): প্রতিযোগিতার বাইরে নাডার (NADA) করা ডোপ টেস্টে তাঁর নমুনায় নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি মেলায় তাঁকে অবিলম্বে গেমস দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • তুলিকা মান (+৭৮ কেজি বিভাগ): বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসের রূপো জয়ী এই তারকা জুডোকা কোনো ড্রাগ টেস্টে ফেল না করলেও ওয়াডার কড়া ‘হোয়ারঅ্যাবাউটஸ்’ (Whereabouts) নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ফেঁসে গেছেন। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় টেস্ট পুলের অন্তর্ভুক্ত অ্যাথলিট হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজের লোকেশন বা অবস্থানের তথ্য জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় (১২ মাসের মধ্যে ৩ বার ত্রুটি) তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। যার ফলে কমনওয়েলথ গেমসের দল থেকে তাঁর নামও বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে ফেডারেশন।

কেন এমন কড়া ব্যবস্থা?

বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থার (WADA) কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেকোনো ক্রীড়াবিদের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা চলাকালীন তো বটেই, এমনকি ‘আউট-অফ-কম্পিটিশন’ বা প্রতিযোগিতার বাইরের সময়েও আচমকা নমুনা পরীক্ষা করা বৈধ। এই ধরনের কড়াকড়ি এবং নিয়মের বেড়াজালে বারবার ভারতীয় অ্যাথলিটদের জড়িয়ে পড়া দেশের ক্রীড়ামহলে শৃঙ্খলার অভাব নিয়েই বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।